Md. Afrooz Zaman Khan

Afrooz
Md. Afrooz Zaman Khan. Powered by Blogger.
RSS

আগুয়েরো, আর্জেন্টিনা

আগুয়েরো


আমার ছোটবেলার বেড়ে ওঠা ছিল ফুটবল–ঈশ্বর ম্যারাডোনার সব ফুটবল ম্যাচের ভিডিও দেখে। সত্যি বলতে, আর্জেন্টিনায় কাউকে বেঁচে থাকতে হলে তার পায়ের নিচে ফুটবলকে রাখতেই হবে।

আমি স্কুল ছুটির সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ফুটবল খেলতে চলে যেতাম। আমাদের পুরো দিনটাই যেন কাটত ফুটবল নিয়ে। শহরের এক কোণে সূর্য উঠুক না উঠুক, অন্ধকার আসুক না আসুক—আমাদের ফুটবল খেলা চলতেই থাকত। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল খেলার পেছনে সময় দিতাম। যে কারণে মাঝেমধ্যে বাড়িতে দেরি করে ফিরতাম। তখন সময় আমার কাছে বড় ছিল না। আমার সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল ফুটবল। আমার ডাক নাম কুন। আমার দাদা-দাদি জাপানিজ একটি কার্টুন সিরিজ দেখে আমার নাম রাখেন৷ যদিও সেই চরিত্রের নাম ছিল কুম কুম!
মাত্র ১৫ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার ক্লাব ফুটবলে অভিষিক্ত হয়ে আমি ফুটবল–ঈশ্বর ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙে ফেলি, যা ছিল আমার জন্য বিরাট বিস্ময়ের৷

আমি সবসময় খেলার মাঠে নিজের মনোযোগ ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি৷ মাঠে নামার আগে খেলার মাঠে কী করব না করব, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা করি না। আমি ম্যাচের আগের রাতে প্রচুর ঘুমাই। চিন্তাকে মাথা থেকে দূরে রাখি। নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাই, গান শুনি। মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করি।
ফুটবল মাঠে আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমর্থকেরাই আমার প্রেরণা। যাদের প্রতিমুহূর্তের সমর্থনে আমি আজ এখানে। আমার মা ও বাবা সব সময়ই আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। তাঁদের প্রার্থনার জন্যই তো আজকের আমি। আমার বাবা ভীষণ ফুটবল খেলতেন। আমার জিনের মধ্যে ফুটবলের ঘ্রাণ আছে। আমি অতীতের কোনো ফুটবলারের ছায়া নিজের মধ্যে নিতে চাই না। আমি নতুন করে আমার জন্য ইতিহাস লিখতে চাই।

আমি ফুটবল মাঠে দৌড়াতে পারলেও ইংরেজিতে ভীষণ কাঁচা। তাই ইংরেজি শেখার ক্লাসে ভর্তি হয়েছি। প্রতিদিন ভাষা শেখার জন্য নিজেকে সময় দিই। টুইটারের অনুবাদ থেকেও ইংরেজি শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি! দুটো ভাষা শিখলে আমি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব।

ফুটবল খেলার মাঠে ঝুঁকি আর বিপত্তি থাকবেই। ইনজুরি থেকে সব পেশাদার ক্রীড়াবিদই দূরে থাকতে চান। শখ করে কি কেউ আহত হন? আমি সব সময় ঝুঁকি এড়িয়ে দ্রুততার সঙ্গে ফুটবল খেলার চেষ্টা করি।
প্রতিভা কখনোই সেন্টিমিটার কিংবা কিলোগ্রাম দিয়ে মাপা যায় না। উচ্চতায় আমি একটু খাটো ছিলাম কিন্তু সেটা আমার জন্য প্রতিবন্ধকতা ছিল না। আমি আমার মতো খেলি। শারীরিক উচ্চতা আর সক্ষমতার চেয়ে বল দখলের দক্ষতাই সবার আগে থাকা চাই। ফুটবলের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়গুলোর একটি হলো, খাটো ফুটবলাররা সমানতালে লম্বা ফুটবলারের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। দেখা যায়, যুদ্ধ শেষে খাটোরাই জয়ী হয়। ফুটবলের ওপর নিয়ন্ত্রণই ফুটবলারের দক্ষতা নির্ধারণ করে। শারীরিক উচ্চতা কোনো বাধা নয়, সবকিছুর মূলে হলো মানসিক শক্তি। অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল বিশ্বকাপ দলে আমি আর আমার সতীর্থ ম্যাক্সিমিলিয়ানো মোরালেজ ছিলাম পুরো টুর্নামেন্টে আকারে সবচেয়ে খাটো ফুটবলার। তা সত্ত্বেও আমরা সেই যুব বিশ্বকাপ জয় করি। আমি সেই বছর গোল্ডেন বয় আর গোল্ডেন বুট সম্মাননা পাই। আমি মনে করি না, পেশিশক্তিই সব। মানসিক শক্তি আরও বড় কিছু। কেউ যদি তার উচ্চতা নিয়ে অখুশি থাকে, তাহলে সেটা আসলে তার জন্যই ক্ষতিকর। ফুটবল মাঠে ফুটবলারের গতি বলে দেয় সে কেমন। আকারে ক্ষুদ্র হয়ে বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়নের মতো ফুটবল খেললে কিংবা দৈত্যের মতো যুদ্ধ করলে যুদ্ধক্ষেত্রে জয় আপনার নিশ্চিত।
 আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো। তাঁর জন্ম ১৯৮৮ সালের ২ জুন বুয়েনস এইরেসে৷ তাঁর দুই গোলের ওপর ভর দিয়ে ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। ২০১০ সালে এক বছরে ২৩৪ ম্যাচে ১০১ গোলের অনন্য রেকর্ড ছিল তাঁর। ৫১টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলে এই স্ট্রাইকারের গোলসংখ্যা ২১। ৩১৬টি ক্লাব ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১৪৯।

সূত্র: বিবিসি ও ব্রিটিশ জিকিউ ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকার অবলম্বনে

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment