মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষার আগে পাঁচ দিন ছুটি। ঠিক হলো বিদায় অনুষ্ঠান এই সময়ের মধ্যেই হবে। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন বিভাগের সবাইকে নিয়ে। আর শেষ দিন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের। ছবি তুলতে পারতাম ভালো। দুই দিনেরই ছবি তোলার দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর।
ঘটনা শেষ দিনেরই। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিকেলে পদ্মায় নৌকাভ্রমণ। আমরা ৩৫ জন। দুটো নৌকা। নদীতে ঘুরছি আর ছবি তুলছি। যার যেভাবে ভালো লাগছে। ক্লোজ, মিড ক্লোজ, সিঙ্গেল, ডাবল। আমার ক্যামেরা এক মুহূর্তের জন্যও থামছে না।
ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা। রাতে বিভাগে খাওয়ার আয়োজন ছিল। মনে করিয়ে দিল একজন। নৌকা তীরে ভেড়া শুরু করল। বন্ধু আমিনুল বসেছিল নৌকার মাঝির পাশেই। ও বলল বইঠা হাতে ছবি তুলতে চাই। ছবির বিষয়বস্তু হবে—সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, মাঝি নৌকা তীরে ভেড়ানোর জন্য দ্রুত বইঠা বাইছে। আমি দাঁড়ালাম নৌকার মাঝখানে। একটা চিকন কাঠের ওপর। অন্য জায়গা থেকে ক্যামেরার পজিশন ভালো হচ্ছিল না।
ক্যামেরার লেন্স ঠিক হলো। ক্যামেরায় অস্তমিত সূর্য এসে ধরা পড়ল। একটা চমৎকার দৃশ্য। আমি তখন রীতিমতো উত্তেজিত। চিকন কাঠের ওপর দাঁড়িয়ে একটার পর একটা শট নিয়ে যাচ্ছি। খেয়ালই করিনি। নৌকা তীরের প্রায় কাছে এসে পড়েছে। হঠাৎ নৌকা গিয়ে তীরে আঘাত করল। নিজেকে সামলাতে পারলাম না। পড়লাম একেবারে নদীতে। বন্ধুদের সহযোগিতায় ওপরে উঠলাম।
নিজেদের বিভাগে ফিরে রাতের খাওয়া শেষ করলাম। প্রজেক্টরের বড় পর্দায় বন্ধুরা এবং শিক্ষকেরা দুই দিনে তোলা ছবিগুলো দেখছিলাম। আমার তোলা ছবির সে কি প্রশংসা! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ সময়ে এসে সবার কাছ থেকে এত প্রশংসা? নিজেকে পেশাদার আলোকচিত্রী মনে হতে লাগল।
হঠাৎ প্রজেক্টরে যে ছবি ভেসে উঠল, তাতে আমার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আমার নদীতে পড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ওপরে ওঠা পর্যন্ত সব ছবি একটার পর একটা প্রজেক্টরে আসতে লাগল। বিভাগের প্রজেক্টর রুমে তখন হাসি আর থামে না। অন্য নৌকা থেকে ছবিগুলো তুলেছিল আমাদেরই এক বন্ধু। নদীতে আমি, হাতে ক্যামেরা। মজা করে একটা ছবিতে ওরা ক্যাপশনও দিয়েছিল ‘ভূপাতিত ক্যামেরাম্যান’।
0 comments:
Post a Comment