প্রতিবারই ঈদের সাত দিন আগে আমার প্রচণ্ড অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তায় কাটে। ঈদের আগের দিন মোটামুটি সব কাজ গুছিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ গাড়ি যে সিগন্যালে আটকাবে প্রত্যেকটা বাচ্চাকে একটা নতুন ১০ টাকার নোট দেব। একটা ১০ টাকার নতুন বান্ডিল সঙ্গে করে বেরোলাম।
প্রথমেই শাহীন কমপ্লেক্স থেকে কিছু বাজার শেষে বের হওয়ার সময় ছোট্ট দুটো শিশুকে দেখলাম গাড়ির সামনে দাঁড়াল কিন্তু আমাকে দেখে টাকার জন্য হাত বাড়াচ্ছে না! আগের গাড়িতে ওরা হাত পেতে বিফল হয়েছিল। আমি ১০ টাকার নতুন নোট দেওয়ামাত্র উল্লাসে ফেটে পড়ল! যথারীতি আরও আট-দশজন বড়-ছোট মিলিয়ে হাজির। প্রত্যেককে একটা করে নোট দিলাম। কী যে খুশি ওরা! অথচ এই ১০ টাকায় কিছুই হবে না। কিন্তু ঈদ বলে কথা!
এরপর গাড়ি নিয়ে গুলশানের দিকে রওনা হলাম। মহাখালী রেলগেটের সিগন্যালে গাড়ি থামল। একটা ছোট্ট ছেলে আমার গাড়ির গ্লাস মুছতে শুরু করল। অমনি আমার ছেলে রিজুর কথা মনে পড়ল, ছেলেটা ওর বয়সেরই হবে। সব সময় আতঙ্কে থাকি ও ব্যথা পায় কি না, ও খাট থেকে পড়ে যায় কি না, ছাদে একা গেছে কি না, কিংবা একমুহূর্তের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে এসি বন্ধ হয়ে ঘেমে কষ্ট পেল কি না!! অথচ এই পথশিশুটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকাল থেকে রাত অবধি আধপেটা খেয়ে এভাবেই কারও গাড়ি মুছে বেড়াচ্ছে। ওকে ডেকে নাম জিজ্ঞাসা করলাম, বলল, হৃদয়। দুইটা ১০ টাকার নোট দিতেই উল্লাসে দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। কষ্ট পাই যখন দেখি গাড়ি থেকে এই শিশুগুলোকে দেখেও না দেখার ভান করে ।
এসব ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক ছিলাম বোধ হয় কিছুক্ষণ। হঠাৎ পেছন থেকে সব গাড়ির তীব্র হর্ন বাজতে লাগল; ট্রেন চলে গেছে। আমাকেও ছুটতে হলো ব্যস্ত ঢাকার রাজপথে আরেকটি নতুন ১০ টাকার নোটের গল্পের খোঁজে।
0 comments:
Post a Comment