সমাধান
মাথা উঁচু করে যখন পাশের আমগাছটার একটা ডাল জড়িয়ে ধরল, তখন বাড়ির সবার নজর পড়ল কুমড়োগাছটার ওপর। সবাই বুঝতেও পারল কুমড়োগাছটা বেশ বড় হয়েছে। বীজটা কে কখন পুতেছিল, তা যেমন কেউ মনে করতে পারে না, তেমনি কেউ জোর করে বলতেও পারে না ‘বীজটা সে পুতেছিল’। কোনো রকম যত্নআত্তি ছাড়াই গাছটা যেভাবে বাড়ছিল, তাতে বাড়ির লোক তো বটেই, আশপাশের লোকজনও বলছিল, বাহ! গাছটা তো খুব সুন্দর হয়েছে।
গাছটার বয়স বাড়তে লাগল, ফুল এল। কিছুদিনের মধ্যে কুমড়োর জালিও (ছোট কুমড়ো) দেখা গেল কয়েকটা। বাড়ির লোকজন, আশপাশের লোকজন দেখে খুব খুশি হলো।
কিন্তু বাড়ির দুই বউ মনে মনে অন্য হিসাব আরম্ভ শুরু করল । বড় বউ ভাবছিল, আমগাছটা তার। তাই কুমড়ো যা হবে তার ভাগ-বাঁটোয়ারা সে নিজের হাতেই করবে। মেজ বউ ভাবছিল, জায়গাটা তাদের। তাই কুমড়ো সে যেভাবে ভাগ করবে, সবাইকে তা-ই মেনে নিতে হবে।
এ হিসাব চলছিল মনে মনেই, সবার অগোচরে। যে গাছটাকে নিয়ে এত জটিল হিসাব-নিকাশ, সেই কুমড়োগাছ কিন্তু জানতেও পারল না যে তাকে নিয়ে এত জটিল হিসাব-নিকাশ চলছে।
কয়েক দিন পরের কথা। মেজ বউয়ের রান্নাঘরে রান্না করার মতো কোনো তরকারি ছিল না। তাই সে চিন্তা করল, একটা কুমড়ো ছিঁড়ে রান্না করবে। হলোও তাই। কুমড়ো মেজ বউয়ের বঁটির ধারে টুকরো টুকরো হয়ে কড়াইতে উঠে খাদ্য-উপযোগী হওয়ার আগেই বাধল বিপত্তি। বড় বউ টের পেল কুমড়ো ছেঁড়া হয়েছে। সেটা কিছুতেই সে মেনে নিতে পারল না । এক কথা, দুই কথা হতে হতে শুরু হলো ঝগড়া। সেটা একসময় তুমুল পর্যায়ে পৌঁছাল। কুমড়ো নিয়ে ঝগড়া শুরু হলেও সেটার শাখা-প্রশাখা গজাতে গজাতে এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে কুমড়ো আর কারও খাওয়া হলো না। মেজ বউ রান্না করা কুমড়ো নিয়ে পুকুরে ফেলে দিল। একসঙ্গে থাকাবস্থায় যেসব কথা এত দিন বলতে পারেনি, সেসব কথাও উঠে এল ঝগড়ার ভেতর।
কিছুদিন পরের কথা। বাড়ির কাজের লোক গরু বের করছিল। দুই গরু একসঙ্গে ছেড়ে দিয়ে আরেকটাকে সে পানি খাওয়াচ্ছিল। গরু দুইটি বাড়ির মধ্য থেকে বের হয়ে এসে আমগাছটার তলায় গিয়ে একটু সময় দাঁড়াল। তারপর দুই বউয়ের সব হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটিয়ে সোজা গিয়ে কুমড়োগাছ খাওয়া আরম্ভ করল। কাজের লোক যখন বাইরে এল, তখন কুমড়োগাছের অর্ধেক গরুর পেটে আর কিছু মুখে। গাছে কুমড়োর যে শাখা-প্রশাখাটুকু ছিল, তা যেন বাড়ির দুই বউয়ের দিকে শূন্য থেকে দৃষ্টি মেলে মিটমিট করে হাসছিল।
0 comments:
Post a Comment