Posted by
Unknown
|
undefinedundefinedundefined
পায়ে ফুটবল, হাতে বই—সচরাচর এমনটা দেখা যায় না৷ খেলার কারণে পড়ার সময়ই বা কই? কিন্তু এমন কেউ কেউ আছেন, যাঁরা খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাকেও মূল্য দিয়েছেন৷ বিশ্বকাপে বিভিন্ন সময় এ ধরনের পড়ুয়া খেলোয়াড়েরাও দেখিয়েছেন আলোর ঝলকানি৷ পায়ের কারুকাজের সঙ্গে হয়েছে পড়ালেখার সৃজনশীল যোগাযোগ৷ আমরা ব্রাজিলের সক্রেটিসের কথা যেমন বলতে পারি, তেমনি ইংল্যান্ডের ল্যাম্পার্ডের নাম উচ্চারণ করতেও সমস্যা হবে না৷ প্রকৌশলী ডেনিস বার্গক্যাম্পের কথাও আমরা জানি৷ আবার ফুটবল খেলোয়াড় তাঁর ক্যারিয়ার ছেড়ে নাসায় যোগ দিয়েছেন—এমন গল্পও আমাদের আপ্লুত করে৷ আসুন, এমন কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে পরিচিত হই৷
চিকিৎসক সক্রেটিসপড়ালেখা আর ফুটবল দুটোকেই জয় করেছেন, এমন লোকের তালিকা করলে প্রথমেই আসে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার সক্রেটিসের কথা। ব্রাজিলের হয়ে ৬০টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলে মধ্যমাঠের ত্রাস সক্রেটিসের গোলসংখ্যা ২২। ‘ডাক্তার সক্রেটিস’ নামেই জনপ্রিয়তা ছিল তাঁর। দীর্ঘদেহী এই মিডফিল্ডার ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলের অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়ের খেতাবও লাভ করেন সক্রেটিস। তিনি সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি লাভ করেন। শুধুই কি চিকিৎসক, সক্রেটিস একাধারে ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার। ফুটবল ছাড়াও রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে তিনি নিয়মিত কলাম লিখতেন।প্রকৌশলী বার্গক্যাম্পডাচ তারকা ফুটবলার ডেনিস বার্গক্যাম্প নাকি বিমানে উড়তে প্রচণ্ড ভয় পেতেন। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বাথ থেকে তিনি যন্ত্রকৌশল বিষয়ের ওপর স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। গোটা নব্বইয়ের দশকে ডাচ ফুটবল মাঠের মধ্যমাঠ আর আক্রমণের পুরো ভার ছিল তাঁর কাঁধে। ৭৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই প্রকৌশলীর গোলসংখ্যা ৩৭।
অধ্যাপক ল্যাম্পার্ডইংল্যান্ডের হয়ে শতাধিক ফুটবল ম্যাচের অধিনায়কত্ব করেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। ১৯৯৯ সাল থেকে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ল্যাম্পার্ডের আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলের সংখ্যা ২২। ইংল্যান্ডের ব্রেন্টউড স্কুলের এই শিক্ষার্থী ১১টি বিষয়ে ব্রিটিশ জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (জিসিএসই) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যার মধ্যে ল্যাটিন ভাষায় তিনি এ গ্রেড লাভ করেন। সতীর্থদের কাছে ফ্র্যাঙ্ক ‘দ্য প্রফেসর’ নামেই পরিচিত।
ফুটবল ছেড়ে নাসায়২০০৬ সালে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার শাকা হিসলপ। শাকা হিসলপ ত্রিনিদাদের সেন্ট ম্যারি কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিজের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর সম্মান ডিগ্রি লাভ করে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায়।এশিয়ার গর্বদক্ষিণ কোরিয়ার ড্রিবলিং মাস্টার লি ইয়াং-পিয়ো ১২৭টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন। ইয়াং সিউলের কোনকাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।আরও যাঁরা গ্র্যাজুয়েটইংল্যান্ডের ফুটবলার স্টিভ পালমার একমাত্র ফুটবলার, যাঁর কিনা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। রুশ ফুটবলার আদ্রে আরশাভিন সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনির্ভাসিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। জাপানের ইউটো নাগাটোমো দোসিশা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেছেন। ইতালির ফুটবলার জর্জো কেলিনি তুরিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক৷ নাইজেরিয়ার ফুটবলার সেই ওলোফিনজানা পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী।এ ছাড়া আরও কজন ডিপ্লোমাধারী ফুটবলারের খোঁজ পাওয়া গেছে৷ ইংল্যান্ডের ওয়েন রুনি ব্রিটিশ জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (জিসিএসই) উত্তীর্ণ। আইভির কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবা অ্যাকাউন্ট্যাসি ডিপ্লোমাধারী। ইতালির ফিলিপ্পো ইনজাগিও ব্যবসায় প্রশাসনে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী। বেলজিয়ামের ফুটবলার রোমেলু লুকাকু টুরিজম ও পাবলিক রিলেশনে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী।দ্য টেলিগ্রাফ, গোল ডট কম, স্পোর্টস ডট কো ডট ইউকে, উইকিপিডিয়া অবলম্বনে
0 comments:
Post a Comment