Md. Afrooz Zaman Khan

Afrooz
Md. Afrooz Zaman Khan. Powered by Blogger.
RSS

কর্মক্ষেত্রে অশ্লীল হয়রানি- নিজের অজান্তে আপনিও হচ্ছেন এসবের শিকার!



কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিষয়টির ব্যাপারে আজকাল সকলেই জানেন। অনেকেই এই কুৎসিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ভাবছেন কর্মক্ষেত্রে হয়রানি কেবল নারীর হয়? অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে যৌনতা বিষয়ক হয়রানির শিকার কর্মক্ষেত্রে পুরুষেরাও হয়ে থাকেন। এছাড়া অনন্য হয়রানি তো আছেই। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নিজেরাই হয়তো বুঝে উঠতে পারেন না যে বিষয়টা হয়রানির দিকে যাচ্ছে। বা এই বিষয়টিও হয়রানি। কলিগের “নির্বোধ” আচরণ ভেবে মাফ করে দেন তাঁরা।
যৌন হয়রানি বলতে কী বোঝায়, সেটা কমবেশি সকলেই জানেন। কারো গায়ে হাত দেয়া, নানান ভাবে তাকে উত্যক্ত করা, অশ্লীল ইঙ্গিত দেয়া, অশ্লীল বার্তা প্রেরন ইত্যাদি সবই যৌন হয়রানির অন্তর্ভুক্ত। তবে এর বাইরেও নানান রকমের হয়রানির শিকার প্রতিনিয়ত আমরা হয়ে থাকি। যেগুলো মানসিক হয়রানি এবং অশ্লীল। একটু মন দিয়ে পড়ুন, দেখবেন মিলে যাচ্ছে আপনার সাথেও।
ধরুন আপনাদের অফিসে গান বাজানো হয়। এরই সূত্র ধরে কেউ হয়তো একটি যৌন উত্তেজক ধরণের গান বাজিয়ে দিলেন যা অশ্লীল কথাবার্তা ও ইঙ্গিতে পরিপূর্ণ। আপনি নারী হন বা পুরুষ, গানটি শোনামাত্র অস্বস্তি বোধ করা শুরু করলেন। আপনার মনোজগতে একটা অরুচিকর প্রভাব পড়লো। এই বিষয়টি কি হয়রানি নয়?
আজকাল অনেকেই অফিসেই ফেসবুক ব্যবহারের অনুমতি আছে। আছে বিভিন্ন সাইটে ব্রাউজ করার সুবিধা। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে কাজের ফাঁকে আপনার অনেক কলিগই হয়তো অশ্লীল ছবি/ভিডিও দেখছেন বা কারো সাথে অশ্লীল চ্যাট করছেন। কাজের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই, কিন্তু করছেন। চলতে ফিরতে গিয়ে হঠাৎ আপনার চোখ পড়ে গেলো, আপনি ভীষণ বিব্রত হলেন। এটাও তো এক রকমের হয়রানি, নাকি?

এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে এক ধরণের মানুষ থাকেন, যারা ক্রমাগত যৌনতা নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। তাঁরা নানান রকমের নোংরা আলাপ করেন যার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে যৌনতা ও অশ্লীল বিষয়। আপনি শুনতে চান কিংবা না চান, কানের কাছে তাদের বকবকানি বন্ধ করা যায় না। এসব মানুষ মনে করে তাঁরা এগুলো ভালোবাসে বলেই সবাই ভালোবাসে। আরও মহা উৎসাহে তাঁরা কথা চালিয়ে যায়।
এর বাইরে যে বিষয়টির মুখোমুখি আমাদের প্রতিনিয়ত হতে হয় সেগুলো হচ্ছে-
-কর্মক্ষেত্রে যৌন উত্তেজক পোশাক পরে আসা, যা অফিসে মানানসই নয়।
-কিংবা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা যা আপনাকে বিব্রত করে। যেমন কেউ যদি সকলের সামনে বসে নিজের গোপন অঙ্গ চুলকান, আপনি কি বিব্রত হবেন না?
-সকলের সামনে ফোনে ব্যক্তিগত আলাপ করা, ব্যক্তিগত কথাবার্তা বলা যা শুনে আপনি বিব্রত হন।
-অফিসে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা বা কথার ফাঁকে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা।
-আপনি না চাইলেও আপনাকে কোন ছবি বা ভিডিও দেখতে বাধ্য করা ও মতামত জানতে চাওয়া।
-আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ক্রমাগত খোঁচাতে থাকা, এটা-ওটা জানতে চাওয়া। আপনার কাছে পাত্তা না পেলে অন্যদের কাছে জানতে চাওয়া ইত্যাদি।
এবার মিলিয়ে দেখুন তো, এমন হয়রানির শিকার আপনি হয়েছেন কিনা? নিশ্চয়ই হয়েছেন কখনো না কখনো, হয়েছেন নিজের অজান্তেই। আর নয় সহ্য করার পালা। এবার আওয়াজ তুলুন। কথা বলুন এই হয়রানির বিপক্ষে। কাউকে অধিকার ও সুযোগ দেবেন না আপনাকে অশ্লীল হয়রানি করতে।



  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment