ইফতারিতে ভেজাল, ফলে ফরমালিন, রেস্তোরাঁয় বাসি খাবার রাখা এবং এর পাশাপাশি নকল শ্যাম্পু ও মাথায় দেওয়ার তেল তৈরির কারখানাকে চার লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। নকল কারখানার দুজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), র্যাব, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ গতকাল সোমবার রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অপরাধে তোপখানার ক্যাফে বাগদাদ রেস্তোরাঁকে ১০ হাজার ও হোটেল ক্যাফে বৈশাখীকে ১০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতারি তৈরির দায়ে পল্টনের মো. আলাউদ্দিনকে জরিমানা করা হয় পাঁচ হাজার টাকা।
আম, আঙুর, কমলা ও ডালিমে ফরমালিন পাওয়ায় উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সের মেসার্স সাব্বির ফ্রুটসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দোকানটির ২৫০ কেজি আম, ১৫ কেজি আঙুর, পাঁচ কেজি কমলা ও ২৫ কেজি ডালিম ধ্বংস করা হয়। উত্তরার রাজশাহী অ্যাগ্রিকালচারাল সোসাইটির আম উৎসবে অভিযান চালিয়ে আদালত পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০ কেজি আম ধ্বংস করে।
বিএসটিআইয়ের অনুমোদনবিহীন পণ্য বিক্রির দায়ে উত্তরার নাটোর টাওয়ারের স্বপ্ন সুপার শপকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পুরান ঢাকার মালিটোলা এলাকায় ১০টি গুদাম এবং নকল শ্যাম্পু, তেলসহ নানা প্রসাধনী তৈরির ১৮টি কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিএসটিআই ও র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ ট্রাক নকল প্রসাধনী জব্দ করেছেন।
নকল প্রসাধনী তৈরি ও বিপণনে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আনোয়ার হাওলাদার (৪২) ও ছানোয়ার হাওলাদার (৩৮)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী হাকিম এ এইচ এম আনোয়ার পাশা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ১৯৯১ সাল থেকে ফেরি করে পুরোনো কাগজ, প্রসাধনীর খালি পাত্র সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। পরে পুরোনো শ্যাম্পু ও সুগন্ধির (বডি স্প্রে বা সেন্ট) খালি বোতল কিনে সেগুলোতে নকল প্রসাধনী ভরে বাজারে বিক্রি করেন। শ্যাম্পুর পুরোনো বোতলে পোশাক কারখানার ওয়াশিং প্ল্যান্টে ব্যবহৃত তরল ডিটারজেন্টের সঙ্গে সুগন্ধি মিশিয়ে ভরা হয়। আর সুগন্ধির বোতলে শুধু স্পিরিটের সঙ্গে সুগন্ধি মিশিয়ে সিরিঞ্জ দিয়ে ভরা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে বিএসটিআইর কর্মকর্তা মনির হোসেন ও র্যাব-১০-এর মেজর শামীম আহমেদ ছিলেন।
0 comments:
Post a Comment