‘একদিন
ক্যাম্পাসে হাঁটতে হাঁটতে সিনেট ভবনের সামনে থমকে গেলাম। নাহ, আর সামনে
এগোব না। যেদিন এখানে অনুষ্ঠিত ডিনস পুরস্কারের খাতায় থাকবে আমার নাম,
সেদিনই প্রবেশ করব এখানে।’ অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অর্পিতা
আদিত্যের এই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের
স্নাতক (সম্মান) ফলাফল এবং গড় উপস্থিতির ভিত্তিতে জীববিজ্ঞান অনুষদের ১০টি
বিভাগের যে ৫৪ জন মেধাবী মুখ অর্জন করেছেন সম্মানসূচক ডিনস পুরস্কার,
তাঁদের মধ্যে রয়েছে অর্পিতার নামটিও।
মূলত মেধাবীদের অনুপ্রেরণার জন্যই প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রদান করা হয় সম্মানজনক ডিনস অ্যাওয়ার্ড। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জীববিজ্ঞান অনুষদের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ৫৪ জনকে ডিনস পুরস্কার দেওয়া হয়। এই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে রয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছয়জন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ছয়জন, জীববিজ্ঞান বিভাগের ১৫ জন, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের চারজন, সাইকোলজি বিভাগের একজন, ফিশারিজ বিভাগের একজন, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তির চারজন এবং অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ১৭ জন।
মজার ব্যাপার হলো, এই ৫৪ জনের মধ্যে ৪০ জনই ছাত্রী! এই তথ্যই প্রমাণ করে যে আমাদের দেশের মেয়েরা ছেলেদের থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নয়, বরং উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এ পুরস্কার পেতে হলে প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত সব বর্ষে গড় উপস্থিতি থাকা চাই কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ, আর সিজিপিএ কমপক্ষে ৩.৭৫ এবং তা পেতে হবে কোনো মানোন্নয়ন পরীক্ষা ছাড়াই। কাজেই এ কোনো নিছক পুরস্কার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মেধা, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের বাস্তবতা। মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেশকাত জাহান যেমন এ সম্মাননা পাওয়ার লক্ষ্যে শুরু থেকেই ভালো ফলাফলের দিকে মনোযোগী ছিলেন। ‘আমার পরিবার এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমি গর্বিত। ভবিষ্যতেও এই স্বীকৃতিকে ধরে রাখব।’ পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন তিনি।
এ বছর অনুষদের সর্বোচ্চ সিজিপিএ ছিল ৩.৯৬, যা অর্জন করেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞানের সারওয়ার হোসেন এবং প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের তাসনিন আক্তার। অথচ সারওয়ার নাকি ভাবতেই পারেননি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন! ‘ভাবতে অবাক লাগে যে এই আমি একদিন স্বপ্ন দেখতাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার! তবে এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখেছিলাম আরও বড় স্বপ্ন, ডিনস পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন। এই পুরস্কার তাই আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা,’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের বক্তব্যে বলছিলেন সারওয়ার।
তবে তাসনিন এ সাফল্যের জন্য বাবা-মায়ের পাশাপাশি তাঁর বন্ধুদেরই দিলেন বেশির ভাগ কৃতিত্ব, ‘ছাত্রজীবনে বন্ধুরা হলো রসায়নের ভাষায় ক্যাটালিস্টের মতো। বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি এবং বিভাগের সেশনজট মুক্ত পরিবেশ আমার ভালো ফল অর্জনে অনেক সহায়ক হয়েছে।’
তবে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংখ্যার ভিত্তিতে সব বিভাগকে ছাপিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগ থেকে মোট ১৭ জন পেয়েছেন এই সম্মাননা। বিভাগের শিক্ষার্থী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী এই সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরা অত্যন্ত স্নেহ সহকারে আমাদের পাঠদান করেছেন এবং সব বিষয় মুখস্থ না করে বুঝে পড়তে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আমরাও তাঁদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। এই সমন্বিত প্রয়াসেরই ফলাফল আমাদের বিভাগের এই সাফল্য।’
পুরো অনুষ্ঠানকে ঘিরেই চলছিল ছবি তোলার মহোৎসব। এই স্বীকৃতিকে কেবল ছবির ফ্রেমে ধরে খলেই চলবে না, একে অতিক্রম করে যেতে হবে বহুদূর—পুরস্কারপ্রাপ্তদের চোখে-মুখে এই প্রতিজ্ঞাই দৃঢ় হয়ে রইল।
মূলত মেধাবীদের অনুপ্রেরণার জন্যই প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রদান করা হয় সম্মানজনক ডিনস অ্যাওয়ার্ড। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জীববিজ্ঞান অনুষদের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ৫৪ জনকে ডিনস পুরস্কার দেওয়া হয়। এই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে রয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছয়জন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ছয়জন, জীববিজ্ঞান বিভাগের ১৫ জন, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের চারজন, সাইকোলজি বিভাগের একজন, ফিশারিজ বিভাগের একজন, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তির চারজন এবং অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ১৭ জন।
মজার ব্যাপার হলো, এই ৫৪ জনের মধ্যে ৪০ জনই ছাত্রী! এই তথ্যই প্রমাণ করে যে আমাদের দেশের মেয়েরা ছেলেদের থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নয়, বরং উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এ পুরস্কার পেতে হলে প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত সব বর্ষে গড় উপস্থিতি থাকা চাই কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ, আর সিজিপিএ কমপক্ষে ৩.৭৫ এবং তা পেতে হবে কোনো মানোন্নয়ন পরীক্ষা ছাড়াই। কাজেই এ কোনো নিছক পুরস্কার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মেধা, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের বাস্তবতা। মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেশকাত জাহান যেমন এ সম্মাননা পাওয়ার লক্ষ্যে শুরু থেকেই ভালো ফলাফলের দিকে মনোযোগী ছিলেন। ‘আমার পরিবার এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমি গর্বিত। ভবিষ্যতেও এই স্বীকৃতিকে ধরে রাখব।’ পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন তিনি।
এ বছর অনুষদের সর্বোচ্চ সিজিপিএ ছিল ৩.৯৬, যা অর্জন করেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞানের সারওয়ার হোসেন এবং প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের তাসনিন আক্তার। অথচ সারওয়ার নাকি ভাবতেই পারেননি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন! ‘ভাবতে অবাক লাগে যে এই আমি একদিন স্বপ্ন দেখতাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার! তবে এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখেছিলাম আরও বড় স্বপ্ন, ডিনস পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন। এই পুরস্কার তাই আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা,’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের বক্তব্যে বলছিলেন সারওয়ার।
তবে তাসনিন এ সাফল্যের জন্য বাবা-মায়ের পাশাপাশি তাঁর বন্ধুদেরই দিলেন বেশির ভাগ কৃতিত্ব, ‘ছাত্রজীবনে বন্ধুরা হলো রসায়নের ভাষায় ক্যাটালিস্টের মতো। বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি এবং বিভাগের সেশনজট মুক্ত পরিবেশ আমার ভালো ফল অর্জনে অনেক সহায়ক হয়েছে।’
তবে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংখ্যার ভিত্তিতে সব বিভাগকে ছাপিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগ থেকে মোট ১৭ জন পেয়েছেন এই সম্মাননা। বিভাগের শিক্ষার্থী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী এই সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরা অত্যন্ত স্নেহ সহকারে আমাদের পাঠদান করেছেন এবং সব বিষয় মুখস্থ না করে বুঝে পড়তে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আমরাও তাঁদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। এই সমন্বিত প্রয়াসেরই ফলাফল আমাদের বিভাগের এই সাফল্য।’
পুরো অনুষ্ঠানকে ঘিরেই চলছিল ছবি তোলার মহোৎসব। এই স্বীকৃতিকে কেবল ছবির ফ্রেমে ধরে খলেই চলবে না, একে অতিক্রম করে যেতে হবে বহুদূর—পুরস্কারপ্রাপ্তদের চোখে-মুখে এই প্রতিজ্ঞাই দৃঢ় হয়ে রইল।
0 comments:
Post a Comment