ছোটবেলায় চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের অগ্রণী সংঘ ও নবীন মেলায় টেবিল টেনিস খেলতেন মানস চৌধুরী। পড়ালেখা হেলায় ফেলে টেবিল টেনিস নিয়ে পড়ে থাকায় অভিভাবকদের অনেক কটুকথাও শুনতে হয়েছে তখন। ‘প্র্যাকটিসের কোনো জায়গা নেই, টেবিল নেই। অনেক কষ্ট করে অনুশীলন করতাম। এখনো ফ্রেন্ডস ক্লাব, নবীন মেলায় দুই–চারটা টেবিল রয়েছে। ওসবই এখন চট্টগ্রামের টিটির একমাত্র ভরসা।’—বললেন মানস।
কিশোর মানস ১৯৮৮ সালে প্রথম ঢাকায় খেলতে যান। ১৯৯০ সালে প্রথম জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথম জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে এ কৃতিত্ব দেখাতে পারেনি কেউ। ১৯৯২ সালে ভারতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ দলে জুনিয়র হিসেবে সুযোগ পান সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ মানস। স্বপ্নের পথে মানসের যাত্রা শুরু তখন থেকেই।
মানস সার্ক এশিয়ান টিটি ও দক্ষিণ এশিয়ান টিটিতে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বকাপ টিটি, ওয়ার্ল্ড টিম টিটি, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস টিটিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
বাবা প্রয়াত সংগীতশিল্পী প্রবাল চৌধুরী ছেলেকে খেলাধুলায় সব সময় উৎসাহ জোগাতেন। মানস বলেন, ‘বাবা কি খেলাধুলা, কি গান—সবকিছুতে আমাকে উৎসাহ দিতেন।’
হ্যাঁ, মানস চৌধুরী সংগীতশিল্পীও। তাঁর গানের অ্যালবাম বের হয়েছে, প্লেব্যাকও করেছেন। বাবা প্রবাল চৌধুরী ও পিসি উমা খানের গান শুনতে শুনতে মানসের শিল্পী হয়ে ওঠা। গানের জগতে মানসের নাম রঞ্জন চৌধুরী। ২০০১ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম বের হয়।
পড়ালেখার ক্ষেত্রেও অগ্রগামী মানস। পেশায় তিনি দন্ত চিকিৎসক। কিন্তু নেশাজুড়ে টেবিল টেনিস। তাই তো এখনো প্রতিদিন ছুটে যান সবুজ টেবিলের টানে বিভিন্ন ক্লাবে। প্রতিদিন সকালে কিংবা বিকেলে দুই ঘণ্টা ঘাম ঝরান প্র্যাকটিসে।
কিছুটা অভিমানীও মানস। একটা সময় তিনি খেলা ছেড়েও দিতে চেয়েছিলেন। পরে সিনিয়রদের অনুরোধে ২০০৭ সালে আবার খেলায় ফেরেন। সে বছর ঢাকা জেলার হয়ে দলগত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হন। একই বছর কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ২৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ হয় ১৫তম।
এত সাফল্যে
র পরও কোনো স্বীকৃতি নেই। নেই কোনো প্রচার। এই জায়গাতেই মানসের মতে, ‘টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই খেলায় আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার।’
মানস নিজেও এই খেলাকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
0 comments:
Post a Comment