হৃদয় থাকলে, মনুষ্যত্ব থাকলে সাধারণের পক্ষেও অসাধারণ কীর্তি করা যে সম্ভব, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন চট্টগ্রামে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পল্টু বড়ুয়া। তিনি পথে জন্মানো এক নবজাতকের আশ্রয় হয়েছেন, তার অপ্রকৃতিস্থ মায়ের চিকিৎসা ও আশ্রয় জুটিয়েছেন। চারপাশের অমানবিকতার পঙ্কিল স্রোতে তিনি যেন এক মানবতার দ্বীপ। তাঁকে জানাই অভিবাদন।
পাথরেও ফুল ফোটে, শহর চট্টগ্রামের ফুটপাতেও জন্মে সুন্দর এক মানবশিশু। অপ্রকৃতিস্থ এক নারী, যাঁর কোনো আশ্রয় নেই, একা একাই সন্তান প্রসব করতে হয় তাঁকে। আর সেই দৃশ্য গোল হয়ে ঘিরে দেখে নিরাবেগ পথচারীরা। কিন্তু একজনের হৃদয়ে আলোড়ন ওঠে। সেই তিনি পল্টু বড়ুয়া মা ও শিশুকে নিয়ে যান হাসপাতালে। নিজেই অভিভাবক হয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। শুধু তা-ই নয়, পরদিন সুস্থ মা ও শিশুটিকে নিয়ে যান আপন সংসারে।
পুলিশের একজন এএসআইয়ের এতটুকু করার সামর্থ্য থাকার কথা নয় এই বাজারে। তারপরও তিনি করেছেন। নিজের তিন সন্তান, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সংসার তাঁর। তাই বলে সাময়িক উদারতা করে থামেননি; নিজের এক নিঃসন্তান আত্মীয়ের কোলে তুলে দেন নবজাতককে। কেননা, অপ্রকৃতিস্থ মায়ের পক্ষে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না। এরপর মাকেও তাঁর মতো থাকার বন্দোবস্ত করে দেন। এর থেকে আর কী ভালো হতে পারে? কী হতে পারে অধিকতর মহৎ ও সুন্দর!
আমাদের একটি মানুষও যদি সামান্য সদয় ও মানবিক হয়, তাহলে সমাজটা আরও মানবিক ও সুস্থ হয়। গৃহকর্মীর প্রতি, শ্রমজীবীর প্রতি, আশ্রয়হীন দরিদ্রের প্রতি, অসহায় শিশুর প্রতি এবং সহনাগরিকের প্রতি সামান্য সদয়ের যোগফলে হতে পারে অসামান্য মানবিকতার জয়। পল্টু বড়ুয়া শুধু আমাদের শেখালেনই না, পুলিশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করলেন। শুভকাজকে পুরস্কৃত করার ঐতিহ্য তাঁর বেলাতেও প্রযুক্ত হোক। স্বীকৃতি মানুষকে শুভকাজে উৎসাহিত করে।
0 comments:
Post a Comment