Md. Afrooz Zaman Khan

Afrooz
Md. Afrooz Zaman Khan. Powered by Blogger.
RSS

১৫ বছর বয়সেই পিএইচডি প্রার্থী!



১৫ বছর বয়সেই পিএইচডি প্রার্থী!



মাত্র ১৫ বছর বয়সে পিএইচডি প্রার্থী হয়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন ভারতের লক্ষ্ণৌর মেয়ে সুষমা ভার্মা। সাফল্য আর রেকর্ড গড়া অভ্যাসে পরিণত করেছেন সুষমা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই বিশেষ বিবেচনায় নবম শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ লাভ করেন তিনি। এরপর আর অগ্রযাত্রা থামেনি এই বিস্ময়-বালিকার।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিএসসি এবং মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে এমএসসি (মাইক্রোবায়োলজি) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এখানেই থেমে থাকার পাত্রী নন সুষমা। এবার বোধ হয় কম বয়সে পিএইচডি ডিগ্রিও লাভ করতে যাচ্ছেন সুষমা। বাবাসাহেব ভিমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন সুষমা।


বাবা পরিচ্ছন্নতাকর্মী তেজ বাহাদুর ও মা গৃহিণী ছায়া দেবীর ঘরে সুষমার জন্ম ২০০০ সালে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সুষমা সবার বড়। তাঁর ছোট ভাইও তাঁর মতোই মেধাবী। সুষমার ছোট ভাই শৈলেন্দ্র বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেছেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে।


সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস








  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

২০৩০ সালের পৃথিবী কেমন চাই


এ পি জে আবদুল কালাম ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণুবিজ্ঞানী। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ ছাড়াও ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’ খেতাবে ভূষিত। টেকফেস্ট আইআইটিতে ৪ জানুয়ারি ২০১৫ তিনি এই বক্তৃতা দেন।
এ পি জে আবদুল কালাম (জন্ম: ১৫ অক্টোবর ১৯৩১-মৃত্যু: ২৭ জুলাই ২০১৫)। ছবি: প্রথম আলোআজকের দিনে চারটি বিষয়ের মাধ্যমে গোটা পৃথিবী গভীরভাবে সংযুক্ত, সেগুলো হলো: পরিবেশ, মানুষ, অর্থনীতি ও আইডিয়া। আমরা জানি, বিশ্ব উষ্ণায়ন আর জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলো কোনো একক দেশের নয়, এগুলো পুরো পৃথিবীর সমস্যা। এখন একটি পণ্যের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন মহাদেশে তৈরি হয়, আর পণ্যটি হয়তো কাজে লাগানো হয় তার উৎপত্তিস্থল থেকে অনেক দূরে কোথাও। আমরা দেখেছি, বিশ্বের এক প্রান্তের অর্থনৈতিক সংকট কীভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে আলোড়ন তোলে। ২০১০ সালে একটি দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পাঁচ হাজার বাণিজ্যিক ফ্লাইট থামিয়ে দিতে হয়। ২০১১ সালের সুনামি নিরাপত্তার ধারণাই বদলে দেয়। আমরা দেখেছি, হারিয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ান বিমান এমএইচ ৩৭০-এর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে কীভাবে ২০টির বেশি দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে।
যাতায়াতব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষ বিভিন্ন দেশের মধ্যে অনেক সহজে যাওয়া-আসা করতে পারছে। এর ফলে দক্ষতা ও প্রতিভার বিশ্বায়ন ঘটেছে। আইডিয়া ও উদ্ভাবন আর ভৌগোলিক বা রাজনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ নেই। আজকের একটি আবিষ্কারের হাজার মাইল দূরে বাজার খুঁজে পেতে এতটুকুও দেরি হয় না। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বৈশ্বিক জ্ঞানের সূচনা করেছে, যেখানে পৃথিবীর এক প্রান্তের সমস্যা সমাধানে একাধিক বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন স্থানে বসেই একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।

আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি ভারত থেকে একটি বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছিলাম। জানতে পারলাম, সেই বিমানটির নিয়ন্ত্রণের অধিকাংশ সফটওয়্যারই ভারতে তৈরি হয়েছে। আমি যখন আমার ক্রেডিট কার্ড বের করলাম, জানলাম, সেটির লেনদেনের পেছনের কাজগুলো চলছে মরিশাসের কোনো একটি সার্ভারে। আমি যখন বেঙ্গালুরুর একটি বহুজাতিক সফটওয়্যার কোম্পানিতে গেলাম, সেখানে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম এক চীনা ডেভেলপার, এক কোরিয়ান প্রজেক্ট লিডার, এক ভারতীয় প্রকৌশলী, এক আমেরিকান হার্ডওয়্যার প্রকৌশলী এবং এক জার্মান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ—সবাই মিলে অস্ট্রেলিয়ার কোনো একটি ব্যাংকের সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। তাঁরা যে সংস্কৃতি থেকেই আসুন বা যে ভাষায়ই কথা বলুন না কেন, সবাইকে একটি পরিবারের মতো একসঙ্গে দেখে আমার মনে হলো, এই বন্ধন যাতে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো সীমান্ত ছাড়িয়ে যাওয়ার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করা।
পৃথিবীর নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে আমার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০৩০ সালে পৃথিবীর চেহারা কেমন হবে, আমি তার একটি রূপকল্প তৈরি করেছি।
সেটি এমন একটি পৃথিবী হবে যেখানে—
১. গ্রাম ও শহর, ধনী ও গরিব, উন্নত ও উন্নয়নশীলের পার্থক্য কমে আসবে। 
২. জ্বালানি ও সুপেয় পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং তা মানুষের হাতের নাগালে আসবে। 
৩. প্রতিটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো চিহ্নিত হবে এবং সে অনুসারে যৌথ মিশনে কাজ করার মাধ্যমে সবার অর্থনৈতিক সুবিধা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। 
৪. শিক্ষার্থীরা এমন শিক্ষা গ্রহণ করবে, যা তাদের মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলবে। 
৫. সবার জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। ৬. স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। 
৭. নারী ও শিশুদের ওপর সব ধরনের অন্যায়ের অবসান ঘটবে এবং সমাজে অবহেলিত বলে কেউ থাকবে না। 
৮. প্রত্যেক নাগরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। 
৯. সব দেশ সন্ত্রাসবাদের ভয়ভীতি থেকে মুক্ত হয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। 
১০. সৃজনশীল নেতৃত্ব দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্ব অনতিবিলম্বে দূর করে বিশ্বকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

পৃথিবীর প্রায় ৩০০ কোটির বেশি মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে, আজ আমি তাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বলতে চাই।
গ্রামের জনগণের প্রতিভা এক বিশাল সম্ভাবনাময় সম্পদ, যা এখনো কাজে লাগানো হয়নি। শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোতেও আমি শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান লক্ষ করেছি। ২০১০ সালে আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে ছিলাম, সেখানে পূর্ব কেন্টাকির গ্রামগুলো আর্থসামাজিক দিক থেকে কতটা পিছিয়ে আছে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় দেখেছি, সেখানকার সরকার ও অন্যান্য সংস্থা মিলে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বাস করে, তাই তাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এই ৩০০ কোটি মানুষের ক্ষমতায়নের বিষয়টি একটি চ্যালেঞ্জ, যার চারটি দিক রয়েছে। প্রথমত, নতুন পণ্য ও সেবার সুবিধাভোগের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে ভারতের জনগণের মাথাপিছু ব্যয়ের পরিমাণ ৮০০ মার্কিন ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ ব্যয়ের পরিমাণ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। অনুমান করা হয় যে উত্থানশীল অর্থনীতিগুলোর জনগণের মধ্যে ভোগের পরিমাণ এমনভাবে বাড়ছে যে ২০০৯ সালে জন্মগ্রহণকারী কোনো শিশু ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির তুলনায় ৩৫ গুণ বেশি পণ্য ও সেবা ভোগ করছে। এর ফলে স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে মানানসই নতুন নতুন জিনিসপত্রের প্রয়োজন হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে। শুধু ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। ৩০০ কোটি মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য তাই স্থানীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম উদ্ভাবন প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, জ্বালানি ও শক্তির সরবরাহ নিশ্চিত করা। উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের সঙ্গে সঙ্গে শক্তির চাহিদা যে আকাশচুম্বী হয়ে উঠবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শক্তির চাহিদা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি যেমন কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ কমে আসবে। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যেমন—নিউক্লিয়ার শক্তি, বায়ুশক্তি, সৌরশক্তি ইত্যাদির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
তৃতীয়ত, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। এটি প্রমাণিত সত্য যে এখন উন্নত সমাজে জীবনযাপনের যে ধারা প্রচলিত রয়েছে, তা গোটা পৃথিবীর পরিবেশের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যদি পৃথিবীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উন্নত সমাজের মানুষের মতো বসবাস করে, তাহলে যে পরিমাণ সম্পদ প্রয়োজন হবে, তার জোগান দিতে এবং উৎপাদিত বর্জ্য নিষ্কাশন করতে আরও ছয়টি পৃথিবীর দরকার পড়বে। তাই ক্ষমতায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ওপর যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেদিনে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
চতুর্থত, বিশ্বব্যাপী সংঘাত ও সংঘর্ষের ইতি টানা। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতাসহ নানা কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পৃথিবীতে নানা দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বেড়েই চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় হচ্ছে, তেমন অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ৩০০ ব্যক্তির হাতে যে সম্পদ রয়েছে, তা সবচেয়ে দরিদ্র ৩০০ কোটি মানুষের সম্মিলিত সম্পদের তুলনায় বেশি। সবার জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে সমান সুযোগ সৃষ্টি করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
আজকের তরুণদের মধ্যে এই মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে: ‘আমি পারব, আমরা পারব এবং আমাদের জাতি পারবে’। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের প্রত্যেক তরুণের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি জাগিয়ে তুলতে হবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবেই পৃথিবীর ৩০০ কোটি মানুষের জীবনে টেকসই উন্নয়নের সুফল বয়ে আনা সম্ভব হবে।
সূত্র: এ পি জে আবদুল কালামের নিজস্ব ওয়েবসাইট। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত, অনুবাদ











  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বুয়েট ভর্তি প্রস্তুতি



আজ প্রকাশিত হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার ফল। শিক্ষার্থীদের প্রধান আগ্রহের বুয়েট ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ২০১৪ সালের বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম অনিক সরকার
অনিক সরকার



কোনো সন্দেহ নেই বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সব থেকে বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী অক্টোবরের ১০ বা ১৭ তারিখে। সে হিসেবে এখনো হাতে আছে মাস দুয়েক সময়। মনে রাখবে, এই সময়টা কিন্তু অত্যন্ত স্বল্প। তাই যতটা সম্ভব সেই সময়কে তোমাদের সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।
২০১৪ সালের অর্থাৎ গতবারের বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা হবে মোট ৬০০ নম্বরের। মোট ৬০টি লিখিত প্রশ্ন থাকবে, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০ করে। এই ৬০টি লিখিত প্রশ্নের মধ্যে ২০টি করে প্রশ্ন থাকবে গণিত, পদার্থ ও রসায়ন থেকে।


পদার্থবিজ্ঞান: পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বলব, বইয়ের প্রতিটি তত্ত্ব ও সূত্রের প্রমাণ মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধানের ক্ষেত্রে আমি দেখেছি, পদার্থবিজ্ঞানে প্রায়ই এমন কিছু সমস্যা দিতে দেখা যায়, যেখানে কিনা একই সঙ্গে দু-তিনটি সূত্র প্রয়োগ করে নতুন একটি সূত্রের মাধ্যমে অঙ্ক করতে হয়। তাই এ ক্ষেত্রে আমি বিশেষভাবে বলব, সূত্র একবারে মুখস্থ না করে প্রতিটি সূত্রের স্টেপ বাই স্টেপ বোঝার চেষ্টা করো। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণে সমস্যার সমাধান করে যাও। তবে খুব কঠিন সমাধানগুলো নিয়ে বসে না থেকে বইতে যে সমস্যাগুলো আছে, আগে সেগুলোই নিয়মিত চর্চা করো। আর যখনই যে সমস্যার সমাধান করবে, কনসেপ্ট পরিষ্কার রেখে সমাধান করবে। যে বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত তা হলো: ভেক্টর, দ্বিমাত্রিক গতি, মহাকর্ষ, শব্দের বেগ, পৃষ্ঠটান, তুল্য রোধ (বিশেষত শর্ট সার্কিটসহ সমস্যা), তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া, আলোর প্রতিসরণ ও প্রিজম।

গণিত: আমার মতে ভর্তি পরীক্ষায় এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সমাধানের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই বিভাগেই সব থেকে বৈচিত্র্যময় এবং অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন বেশি আসে। তাই এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বেশ বেশি চর্চা করা উচিত। আমার মতে, গণিতে অবশ্যই একটু বেশি সময় দেবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে নিচেরগুলো ভালো করে চর্চা করলে তা কাজে দেবে। •Integration, Probability, Limit, বিন্যাস-সমাবেশ, জটিল সংখ্যার আর্গুমেন্ট, স্থিতিবিদ্যা (বিশেষত লামির উপপাদ্য ও বল ত্রিভুজ-সম্পর্কিত সমস্যা)।

রসায়ন: অস্বীকার করব না, কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো বুঝতে যাওয়ার থেকে মুখস্থ করা লাগে, তবে তা হতে হবে নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে। তাহলে দেখবে জটিল বিষয়গুলোও আয়ত্তে চলে আসবে। প্রতিটি বিক্রিয়ার মেকানিজম ভালো করে বুঝে পড়ার চেষ্টা করবে এবং আলাদা খাতায় গুছিয়ে লিখে রাখা ভালো। আর জৈব রসায়নকে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ো। গুরুত্বপূর্ণ যে টপিকগুলো চর্চা করবে, তা হলো: হাইড্রোকার্বন, অ্যালকোহল, জারণ বিজারণ, অম্ল ক্ষারক সাম্যাবস্থা।

সাধারণ কিছু টিপস: বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের নিচেই করতে হয় এবং তার জন্য খুব সীমিত জায়গা বরাদ্দ থাকে। ফলে প্রশ্নের উত্তর যথাসম্ভব সংক্ষেপে করাই শ্রেয় এবং ভাষার বাহুল্য প্রয়োগ একেবারেই করা উচিত নয়। শুরু থেকেই তিনটি বিষয়ের জন্য আলাদা খাতা নিয়ে নাও। প্র্যাকটিস খাতা। ব্যতিক্রমী অঙ্কগুলো আলাদা করে তুলে রেখে বারবার চর্চা করো।
প্রতিটি চ্যাপ্টার শেষে প্রশ্নব্যাংক সমাধান করে ফেলবে। মূল বইকে প্রাধান্য দিয়ে আগে শেষ করো। তারপর সহায়ক বই হিসেবে অন্যান্য বইগুলো দেখতে পারো। যে অঙ্কই করো না কেন, সব খাতায় লিখে বারবার প্র্যাকটিস করো। যেকোনো এক লেখকের বই সম্পূর্ণ শেষ করে তারপর ভিন্ন লেখকের বইয়ের অপরিচিত অঙ্কগুলো করা ভালো হবে। আরেকটা জরুরি কথা, বুয়েটের জন্য প্রস্তুতি অন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতিতেও কাজে লাগে। তোমাদের জন্য শুভকামনা।

অনিক সরকার: ২০১৪ সালের বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায়
প্রথম স্থান অধিকারী।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

চাই সমালোচনা গ্রহণের শক্তি



কুমার সাঙ্গাকারা সম্প্রতি কলম্বো টেস্ট ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে ইতি টানেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের। তাঁর জন্ম ১৯৭৭ সালের ২৭ অক্টোবর। উইজডেন তাঁকে ২০১১ ও ২০১৫ সালের লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড তকমা দেয়। ১৩৪ টেস্টে ৩৮টি সেঞ্চুরিসহ সাঙ্গাকারার সংগ্রহ ১২ হাজার ৪০০ রান এবং ৪০৪ ওয়ান ডেতে ২৫টি সেঞ্চুরিসহ সংগ্রহ ১৪ হাজার ২৩৪ রান।
কুমার সাঙ্গাকারা

ক্রিকেট খেলা আমার জন্য সব সময়ের জন্য আশ্চর্যের এক খেলা। ছোটবেলা থেকেই আমি ক্রিকেটের মধ্যে অদ্ভুত জাদুর বিস্ময় দেখে আসছি। আপনি যদি খেলা উপভোগ না করেন, তাহলে খেলার মধ্যে আনন্দ খুঁজেই পাবেন না। আনন্দ না পেলে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়ে ভালো খেলাও প্রদর্শন করা যাবে না।
যদি ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পেছনে তাকাই তাহলে আমার অনেক গল্প মনে ভেসে ওঠে। ক্রিকেটে আসলে কোনো কিছু একাকী করা যায় না। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে আমাদের নানা কিছু শিখে শিখে সামনে এগোতে হয়। নিজেকে একটু একটু করে গড়ে তুলে সামনে যেতে হয়। আমার জীবনে ক্রিকেটের মাধ্যমে অনেক মানুষের স্পর্শ পেয়েছি। আমার বন্ধু, পরিবার, কোচ আর নিজের দল ও প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারদের নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে এসেছি। আমি অনেক ভাগ্যবান ছিলাম বলেই এত এত সব মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। আর সেই আশীর্বাদের কারণেই আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করে গেছি।
শুধু ক্রিকেটেই নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই শক্তিশালী মার্জিত ব্যক্তিত্ব মানুষকে তার অন্তরের আসল ছবি তুলে ধরতে সহায়তা করে। ব্যক্তিত্বই আমাদের মধ্যে বিশ্বাস আর আত্মশক্তির বিকাশ ঘটায়। জীবনে এগিয়ে চলার জন্য সমালোচনা গ্রহণের শক্তি থাকতে হবে আমাদের। নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস রেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা শেখা উচিত আমাদের। নিজের ভেতরের সব শক্তিকে ভালো কাজ আর আনন্দময় কোনো কাজে আমাদের সব সময় ব্যয় করা উচিত।
আমি গত দশকের শুরু থেকেই ফাউন্ডেশন অব গডনেস নামের স্পোর্টস একাডেমির সঙ্গে যুক্ত। কুশিল গুনাসেকারা ও মুত্তিয়া মুরালিধরন এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিবছর আমরা ৫০ হাজারের বেশি জনের সঙ্গে এই একাডেমির মাধ্যমে যুক্ত হতে পারছি। আমরা খেলার জন্য চিকিৎসা, ওষুধ, ব্যায়ামের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নানা ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। কারিগরি শিক্ষা, ইংরেজি ভাষা শিক্ষাসহ বিভিন্ন জীবনসংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা শহর আর গ্রামের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। গৃহযুদ্ধ শেষে পুরো শ্রীলঙ্কাজুড়ে আমরা এমন সব কাজ করে যাচ্ছি।

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে তাদের ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং ম্যান অব দ্য সিরিজের অর্থ তুলে দেয়। নানান সময়ে আমরা নানা ধরনে দাতব্য কাজে অর্থ তুলতে সহায়তা করি।
ক্রিকেট জীবনে আমি অধিনায়কত্বের সময়টা দারুণ উপভোগ করেছি। ২০১০ সালে আমরা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সিরিজ জয় করি। ২০০৯ সালে আমরা পাকিস্তানকে টেস্ট ক্রিকেটে দেশের মাটিতে পরাজিত করি। তখন আমাদের দলের সঙ্গে ছিল ট্রেভর বেইলিস আর সহকারী কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। তরুণ আর অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মিশেলে আমরা ছিলাম বেশ ভয়ংকর একটি ক্রিকেট দল। পরবর্তী সময়ে চন্দিকা হাথুরুসিংহেকে আমরা শ্রীলঙ্কা দলের জন্য পরিপূর্ণ কাজে লাগাতে পারিনি। তার হাতেই তো অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্রিকেটার স্টিভেন স্মিত দারুণভাবে শাণিত হয়ে ওঠে। আর এরপরে চন্দিকা তো পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বদলে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া দেখা যায়। ভয়হীন একদল ক্রিকেটার মাঠে খেলছে—এটা চন্দিকারই জাদু। সে ক্রিকেটারদের অকুতোভয় হতে শেখায়। আমি চন্দিকা আর তার কাজ নিয়ে ভীষণ গর্ব অনুভব করি। শুধু আমাদের জন্য নয় বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্য সে দারুণ কাজ করেছে।
ক্রিকেটার হিসেবে নিজের দেশকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করতে পারা ভীষণ গর্বের। খেলা বা যেকোনো কাজ করতে হয় মন দিয়ে। মন দিয়ে কাজ করলে কাজে আটকানোর কোনো কারণই থাকে না। কেউ যদি সামনে তাকায় আর এগিয়ে চলা শুরু করে একদিন সে লক্ষ্যে পৌঁছাবেই।
সূত্র: ইন্টারনেট। শ্রীলঙ্কার ইংরেজি দৈনিক দ্য আইল্যান্ডে ২০ আগস্ট প্রকাশিত সাক্ষাৎকার অবলম্বনে 













  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অন্যের কথা শুনে কে বড় হয়েছে



মালয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী মিশেল ইয়েও। জন্ম ১৯৬২ সালের ৬ আগস্ট। জেমস বন্ড সিরিজের টুমরো নেভার ডাইস (১৯৯৭) সিনেমায় বন্ড গার্ল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আলোচিত তিনি। ২০০৯ সালে পিপল ম্যাগাজিন তাঁকে পৃথিবী সেরা ৩৫ অভিনেত্রীর একজন হিসেবে ঘোষণা দেয়।
মিশেল ইয়েও

সিনেমার পর্দায় নিজের অ্যাকশন দৃশ্যে আমি নিজে অভিনয় করি। স্টান্টম্যান ছাড়া নিজেই ঝুঁকি নিয়ে নানা দৃশ্যে অভিনয় করি। আমাকে অনেকেই বলেন, ‘অভিনেত্রী হিসেবে আমি ঝুঁকির দৃশ্যে অংশ নিতে পারব না।’ আমি সবার কথা এড়িয়ে নিজের অভিনয় নিজে করে যাই। অন্যের কথা শুনে কে বড় হতে পেরেছে? আর আমি যদি ঝুঁকিই না নিতে পারি তাহলে আমি কিসের জন্য নারী! নারীকে সব সময় অভিযাত্রীর মতো ঝুঁকি নেওয়া জানতে হয়, শিখতে হয়। তুলার চাদরে মুড়িয়ে থাকার জন্য নারীর জন্ম নয়। দরজা ভেঙে মানুষের মতো নিজের স্বপ্নের সিঁড়ি দিয়ে ঘাড় উঁচিয়ে দৌড়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাই নারীর সগৌরব।
আমার জন্ম চীনা-মালয় এক পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই আমি নিজেকে প্রকাশের জন্য মনের চেয়ে শরীরে জোর দেওয়ার চেষ্টা করে আসছি। শারীরিক ভাষা মুখের ভাষার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। পৃথিবীতে যাঁরা প্রভাব রাখেন, তাঁরা সবাই কিন্তু শরীর দিয়ে কথা বলতে জানেন, সেভাবেই কথা বলেন। শারীরিক ভাষা কিন্তু মুখের কথার প্রভাব বাড়িয়ে দেয়। অভিনয়শিল্পী হতে চাইলে শব্দের ভাষার চেয়ে শরীর আর মনের ভাষায় শক্ত ধার আনা প্রয়োজন। সাধারণত দেখা যায়, আমাদের মুখের বলা কথায় তেমন বৈচিত্র্য নেই। কিন্তু আমাদের তাকানোর ধরন, চোখের পাতা নাড়ানোর ভাষায় প্রতিমুহূর্তে বদল আনা যায়। সিনেমার দর্শকেরা যদি সব সিনেমায় একই আমাকে দেখে তাহলে আমি অভিনয়শিল্পী নই। সে-ই প্রকৃত অভিনয়শিল্পী যিনি নিজে কোনো চরিত্রকে শরীর আর মনে ধারণ করে দর্শককে তার মধ্যে টেনে নেন।
১৬ বছর বয়সে আমি পিঠের ব্যথার জন্য ব্যালে নাচ ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমি লন্ডনের রয়েল একাডেমি অব ড্যান্সে নাচ শিখতাম তখন। তার আগে আমি মানুষের কাছে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার নানা গল্প শুনতাম। ১৬ বছরে আমার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। চিকিৎসক আমাকে নাচের বদলে অন্য কিছু করার পরামর্শ দেন। সেই অন্য কিছু শব্দটাই আমাকে বদলে দেয়। ব্যালে নাচে কিন্তু নাচের চেয়ে অভিব্যক্তিই বেশি। আমি নাচ শেখা বাদ দিই, কিন্তু অভিব্যক্তি শেখার জন্য নাচের একাডেমিতে থেকে যাই। আমি নাটক শেখার চেষ্টা করি। চোখ দিয়েও যে নাচা যায় সেটা সেখানেই শিখি।

হলিউডে এশীয়দের বড় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয় কম। অনেক বছর ধরে কখনো রাঁধুনি, কখনো রেস্টুরেন্টের ওয়েটার হিসেবেই এশীয়দের হলিউডে অভিনয় করতে হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে এই ধাঁচে অন্যরকম পরিবর্তন আসে। এখন এশিয়ানরাও হলিউড সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করছে। সেই সময়টায় কেউ আমাকে যদি এশিয়ান চরিত্রে অভিনয় করতে বলত, আমি অভিনয় করতাম না। আমি একজন অভিনয়শিল্পী; এশিয়ান বা আফ্রিকান বা মঙ্গলগ্রহের কোনো প্রাণী আমার পরিচয় হতে পারে না।
আমি প্রতিদিন নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। নারী হিসেবে সমাজ আমাকে অনেক নিয়ম আর শৃঙ্খলে আটকে রাখার চেষ্টা করে, আমি প্রতিদিন নিয়ম করে সেসব নিয়ম ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাই। নারীর শক্তি অনেক।
শিশুরা সব সময় অনুপ্রেরণা পায় এমন কাজই আমি করার চেষ্টা করি। শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য প্রতি মাসেই কোনো না-কোনো স্কুলে যাই। আমি সবাইকে একটা কথাই বোঝানোর চেষ্টা করি, দুর্ঘটনায় যে মানুষটি মরে যায় সে কিন্তু আসলে বেঁচে যায়, তার বেঁচে থাকা পরিবারের সদস্যদের এই পৃথিবীতে সে মেরে রেখে যায়।

আমি পশ্চিমের দুনিয়ায় অভিনয় করলেও আমার শিকড়ের কথা ভুলে যাই না। শিখরে উঠতে গেলে শিকড় ভুললে চলবে না। আমি নারী অধিকার নিয়ে সব সময় সচেতন। এশিয়ার নারীদের পায়ের সামনে অনেক বাধা থাকে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারীরা সম্মান পান না। এই অঞ্চলের পরিবারের কাছে ছেলেসন্তানই মানুষ। নারীদের ইচ্ছে করেই দরজার বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। এই বাধা সমাজের মানুষেরাই নিজেরা তৈরি করে রেখেছে। আমাদের সবার প্রচেষ্টা দিয়ে এই বাধা দূর করতে হবে। আমরা রাতারাতি বাধা-বিপত্তি ডিঙাতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কোথায়?

সিনেমায় অভিনয় করার সময় আমাকে সবাই বলে, ‘আরে তুমি তো নারী হিসেবে অনেক অ্যাকশন দেখাতে পারো।’ জেমস বন্ডের টুমরো নেভার ডাইস সিনেমার পরিচালক আমার সব ধারণা বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘মিশেল, তুমি অ্যাকশন পারো বলে তোমাকে সিনেমায় নেওয়া হয়নি। তুমি অভিনয় জানো বলে তোমাকে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেধা আর মাথা দিয়ে অভিনয় করার চেষ্টা করে যাও।’ সেই থেকে মেধা, মাথা আর পরিশ্রম দিয়েই আমি এগিয়ে যাচ্ছি।
ব্যক্তিজীবনে আমি পাঁচজন সন্তানের মা। এই পাঁচ সন্তানের জন্ম আলাদা আলাদা পাঁচ মায়ের গর্ভে হলেও তারা সবাই আমার সন্তান। মানুষ যখন নিজের সন্তান ছাড়িয়ে অন্যের সন্তানকে ভালোবাসতে শেখে সে আসলে তখন ঈশ্বরকে খুশি করে। আমি ঈশ্বরকে পাঁচ গুণ খুশি করতে পারি।
প্রাচীন চীনা সাহিত্যে নারীদের সব সময় শক্তিশালী চরিত্র হিসেবে দেখা যায়। যোদ্ধা, তলোয়ারবিদ হিসেবে নারীরা পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন রূপকথা আমরা পড়ি। রূপকথা কেন বাস্তব হতে পারে না? নারীরাও তো সব পারে, কেন তাদের আটকে রাখা হবে? চীনা বর্ষপঞ্জি হিসেবে আমি বাঘের বছরে জন্মেছি, আমার রাশি হলো সিংহ। আমি কেন সমাজকে ভয় পাব?
সূত্র: ইন্টারনেট। ম্যারি ক্ল্যায়ার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার অবলম্বনে.....................










  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

দ্রুত পড়া মুখস্থ করার ৮টি কার্যকর পরামর্শ




দ্রুত পড়া মুখস্থ করার ৮টি কার্যকর পরামর্শ, শিক্ষার্থীদের নানা সময় ব্যাপক চাপে পড়তে হয়। লেখাপড়া, খেলা, প্রেজেন্টেশন বা সৃজনশীল কাজে নানা চাপ থাকে। সব কিছু ঠিকঠাক রেখেই বা যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করতে কিছু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। পড়াশোনা দ্রুত মাথায় ঢুকিয়ে নিতে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর উপায়। প্রিয় পাঠক আসুন দেরী না করে জেনে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো সম্পর্কেঃ-

জোরে পড়ুনঃ
জোরালো কণ্ঠে পড়ুন। জোরে পড়লে মাথায় তথ্য দ্রুত ঢুকে যায়। যেমন একটি গান যখন শোনেন, তখন তা দ্রুত মনে পড়ে। যা পড়ছেন তা কানে প্রবেশ করলে দ্রুত মুখস্থ হবে।

লক্ষ্য স্থির করুনঃ
পড়তে বসলে নিজের লক্ষ্য স্থির করুন। বইয়ের কত পাতা পর্যন্ত কত সময়ের মধ্যে শেষ করবেন তা ঠিক করে নিন। নয়তো মনোযোগ হারাবেন এবং সময়ের অপচয় হবে।
নিজেই যখন শিক্ষকঃ
নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠুন। কি পড়লেন, কি মুখস্থ করলেন ইত্যাদি বুঝতে নিজেই শিক্ষকতা পালন করুন। নিজেই পরীক্ষা দিন এবং তা যাচাই করুন।

নোট করুনঃ
যাই শিখবেন তাই লিখে ফেলুন। এগুলো নোট করুন। লেখা হলে তা দ্রুত মাথায় ঢুকে যাবে এবং সহজে ভুলবেন না।

ইন্টারনেটের ব্যবহারঃ
আধুনিক যুগে পড়াশোনার বড় সুবিধা দেয় ইন্টারনেট। বিভিন্ন টপিক সম্পর্কে ধারণা নিন। যে বিষয়ে পড়ছেন তার সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুই হয়তো বইয়ে নেই। এগুলো ইন্টারনেটে দেখে নিন। এতে ধারণা পরিষ্কার হবে।

বিরতি দিনঃ
একটানা অনেকক্ষণ পড়লে অস্থিরতা চলে আসবে। এর জন্যে নিয়মিত অল্প সময়ের জন্যে বিরতি নিন।

চিউইং গামঃ
এটি চিবোতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, চিউইং গাম চিবোতে চিবোতে পড়লে তা মাথায় দ্রুত প্রবেশ করে। এ সময় মস্তিষ্কের কার্যক্রম দ্রুত হয় এবং গামের ফ্লেভার বেশ উপকারী হয়ে ওঠে।

হাঁটুনঃ
বেশ কিছুক্ষণ পড়ার পর ১৫-২০ মিনিট হেঁটে আসুন। এতে দেহের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং মস্তিষ্ক বিশ্রাম পাবে।





  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

শুরু করাটাই আসল কাজ




পোশাক ও খেলার সরঞ্জাম নির্মাতা বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান নাইকি ইনকরপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফিল নাইট। জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৩৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। তিনি পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ ধনী। ক্যানসার গবেষণা ও বাস্কেটবল খেলার উন্নয়নে তিনি আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য আলোচিত। ফিল নাইট ২০১৪ সালের ১৪ জুন স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসের ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এই বক্তৃতা করেন।
নাইকির সহপ্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটসবাইকে অভিনন্দন। আমি স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস থেকে ১৯৬২ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি। অর্ধশতাব্দীর বেশি আগের সময়ের ঘটনা ছিল সেটি। এমন এক সময়ে আমি স্নাতক সম্পন্ন করি, যখন সবে জেট বিমানের যাত্রা শুরু হয়। বোয়িং ৭০৭ বিমান আকাশে ওড়া শুরু করে তখন। তখন কোনো সিলিকন ভ্যালির অস্তিত্বই ছিল না। এমনকি ফ্যাক্স মেশিনও ছিল না। আর ইন্টারনেট তো ছিল কল্পনার বাইরের কিছু। ছিল না কোনো মুঠোফোন আর আইপ্যাড। তখন সবচেয়ে আধুনিক আবিষ্কার ছিল রঙিন টেলিভিশন। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বলে কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোম্পানি ছিল তখন জেনারেল মোটরস। ওয়াল স্ট্রিটে তখন বিখ্যাত কোম্পানির মধ্যে আলোচিত ছিল মেরিল লিঞ্চ, পিয়ার্স, ফেনার ও স্মিথ। সে সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারত না। এমনকি তখন জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য বার্থ কন্ট্রোল পিলও আবিষ্কৃত হয়নি। আমার শুরুর সময়টার গল্প শুনে তোমরা ডাইনোসরের যুগে ফিরে যাওয়ার গল্পের সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে পারো।

আমাকে আসলে আজকে এখানে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আমি জানি না। আমাদের সময়টা আর তোমাদের সময়টা তো বেশ আলাদা। কিন্তু আমি আজকে আমার জীবনের কিছু কথা তোমাদের জানাতে চাই। যদিও আমি জনসম্মুখে কথা বলতে অভ্যস্ত নই, কিন্তু তারপরও আমি আজ এখানে এসেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তো জন্ম আমার। জন্মস্থানে ফিরে আসার আনন্দ নিশ্চয়ই অনেক ভালো লাগার। এই ক্যাম্পাসে আমি ২২ বছর বয়সে প্রথম পা রাখি। জড়তা, অনিশ্চিত আর লক্ষ্যহীন ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করি আমি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আর দ্বিতীয় বর্ষের মধ্যবর্তী গ্রীষ্মে আমি নিজের সঙ্গে দীর্ঘ এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ি। কর্মজীবনে প্রবেশের আগে আমি সারা পৃথিবী ঘুরে দেখব কি না—এই প্রশ্নে আমি নিজের সঙ্গে অনেক দিন তর্ক করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য, নিজেকে আলোকিত করার জন্য, নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আমি পৃথিবী ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নিই। ঠিক তারপরের শীতকালে আমি উদ্যোগবিষয়ক একটি কোর্স অংশ নিই। পড়াশোনার অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহ মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকার সুযোগ পাই। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরে আমি যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের পারিবারিক গাড়ি বিক্রি করে আমি টাকা জোগাড় করি। বন্ধু গ্যারি কার্টারকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি পুরো যুক্তরাষ্ট্র দেখতে।

আমরা প্রথমে যাই হাওয়াইয়ে। আট ঘণ্টার বিমানযাত্রা শেষে হাওয়াই আসি আমরা। আমরা দুই বন্ধু সারা দিন হাওয়াইয়ে সমুদ্রে সার্ফিং করতাম। আর সন্ধ্যার কিছু আগে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এনসাইক্লোপিডিয়া বিক্রি করতাম। মনে হয়, আমিই স্ট্যানফোর্ডের একমাত্র স্নাতক শিক্ষার্থী, যার জীবনের প্রথম চাকরি ছিল ‘এনসাইক্লোপিডিয়া বিক্রি’ করা। কয়েক মাস হাওয়াই থেকে বাড়ি ফিরব কি ফিরব না, সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যাই।

আমি জাপান যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। জাপান থেকে জুতা কেনার অর্ডার দিয়ে আমি হংকং চলে যাই। দেশে ফিরে ব্যবসা শুরুর আগে আমি নিজেকে চেনার চেষ্টায় অনেক মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করি। আমি অনেক জায়গায় যাই, অনেক অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করি। জীবনে আসলে সে-ই বড় হয়, যার অভিজ্ঞতা যত বেশি। অভিজ্ঞতাই মূলধন।
বছর খানেক পরে দেশে ফিরে জাপান থেকে আনা জুতা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচ বিলি বাওয়ারম্যানকে দেখাই। আমরা অর্ধেক লভ্যাংশ ভাগের শর্তে জুতা বিক্রি শুরু করি। আমি আরও ৩০০ জুতার অর্ডার করি। প্রথম বছরে আমরা আট হাজার ডলারের জুতা বিক্রি করি। আমাদের এতে লাভ হয় ২৫০ ডলার। আমি ও কোচ মিলে একটা ছোট কোম্পানি গঠন করি। আমরা এক লাখ ডলারের জুতা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই। ১৯৭২ সালের মধ্যে আমরা দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলারের জুতা বিক্রি করে ফেলি। আমি নিজের ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রির চেষ্টা করি। আমাদের ছোট কোম্পানিতে তত দিনে ৪৫ জন কর্মী কাজ শুরু করেছে। আমি সবাইকে নতুন ব্র্যান্ডের নাম দিতে বলি। স্ট্যানফোর্ডের এক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী জেফ জনসন ছিল আমাদের প্রথম কর্মী। সে-ই প্রথম ‘নাইকি’ নাম প্রস্তাব করে। আমার আসলে নামটি প্রথমে ভালো লাগেনি। কিন্তু বাকি ৪৪টি নামের চেয়ে এই নামটি ভালো ছিল বলে আমরা নাইকি নামের ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই। আমরা শুধু দৌড়ানোর জুতা নয়, রেসলিংয়ের জুতা, টেনিসের জুতা, এমনকি বাস্কেটবল খেলার জুতা বিক্রি শুরু করি। আমাদের ওই বছর বিক্রি ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু সেবার আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস বিভাগ থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কর প্রদান করার আদেশ জারি হয়। আসলে ভেবে পাচ্ছিলাম না এত টাকা কীভাবে জোগাড় করব।
আমাদের ১৫ হাজার জোড়া জুতা তৈরি হয়, এমন একটি কারখানা ছিল। আমরা কম লাভে জুতা বিক্রির ঘোষণা দিই। আমরা জাপান থেকে আনা জুতার অনুকরণে জুতা বিক্রি শুরু করি। আমাদের কাজ দেখে তখন অনেকেই হেসেছিল। কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি। সবার হাসি থামানোর জন্যই আমরা দিন-রাত পরিশ্রম শুরু করে কর প্রদান করি।
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৎবাঁধা বক্তৃতা পছন্দ করি না। আমি পরামর্শেও বিশ্বাসী না। অভিজ্ঞতা দিয়েই আমাদের শেখার পাল্লা ভারী করতে হবে। কাজ করার সামর্থ্য আর কাজ করার ইচ্ছা—সব টাকাপয়সা আর ক্ষমতাকে পরাজিত করতে পারে। তোমার যদি কোনো অর্থও না থাকে, তাহলে বাড়ি থেকে সাত হাজার মাইল দূরে যেতে ভয় পেয়ো না। কাজের সুযোগ পেলে তা ছেড়ে দিয়ো না। সুযোগ পেলেই নিজের প্রতিভা ঝালিয়ে নিতে পারো। আসলে যেখানে সংগ্রাম আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, সেখানে আসলে দক্ষতা দেখানোর কিছু নেই।
১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাও? এমন প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে মাঠে নেমে যাও। শুরু করাটাই আসল কাজ। আসলে আমাদের হাতে এত ভাবার সময় নেই। নিজেকে ভবিষ্যতে না দেখে বর্তমানে দেখার চেষ্টা করো। সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটা মন্ত্র আমাদের আত্মস্থ করা উচিত। আমার শিক্ষক ফ্র্যাঙ্ক শ্যালেনবার্জার ছয় দশক আগে বলেছিলেন, ‘তখনই তুমি ব্যর্থ হবে, যখনই তুমি চেষ্টা করবে না। অতএব, চেষ্টা করে যাও।’

সূত্র: ওয়েবসাইট। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ



  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS