Md. Afrooz Zaman Khan

Afrooz
Md. Afrooz Zaman Khan. Powered by Blogger.
RSS

ক্যানসার



তোর বয়ফ্রেন্ডের তো ক্যানসার, তাই না?

হুমম। বাবা, ওর সাথে বিয়ে নিয়ে কথা বলছিলেন। জুনেই হয়তো তারিখ ঠিক করবেন।

কী? ছেলের ক্যানসার! তবু তোমার বাবা তার সাথে বিয়ে দিচ্ছেন?

আন্টি, ওর রাশি ক্যানসার মানে কর্কট।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ভিমবারভীতি



সেদিন বন্ধুরা মিলে ভূত নিয়ে গবেষণা করছিলাম। আমি বললাম, ‘ধুরর, ভূত-টুত বলে কিছু নাই। আমি এইসব বিশ্বাস করি না।’ আমার বন্ধু নির্জন একমত হলো, ‘আমিও। তবে ভূতে বিশ্বাস না করলেও আমি ভিমবারে বিশ্বাস করি।’ সবাই অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম, গল্পের বইয়ে অনেক রকম ভূতের নাম পড়েছি। কিন্তু ভিমবার বলে তো কোনো ভূতের নাম শুনিনি! এটা আবার কোন ভূত? নির্জনকে জিজ্ঞেস করতে হলো না। সে নিজেই বুঝিয়ে দিল, ‘আরে, ওই যে আছে না, যারা মানুষের ঘাড়ে কামড় দিয়ে রক্ত খায়?’ ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠলাম, ‘ভ্যাম্পায়ার?’ ভুলটা ধরতে পেরে জিবে কামড় দিল ও। সেদিন থেকে আমরা ওকে ভিমবার বলেই ডাকি।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কৌতুক ....... 1



আমার মামাতো ভাই মাহিফের বয়স মাত্র চার বছর। সামনের বছর স্কুলে ভর্তি হবে। আর তাই সারা দিন নতুন নতুন শব্দ শিখছে ও। কেমন পড়াশোনা করছে খোঁজ নিতে গেলাম ওর বাসায়। আমাকে দেখেই বলে উঠল, ‘জানো ভাইয়া, দাদিজান না ননসেন্স হয়ে গেছেন!’ আমি ব্যাপারটা ধরতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মানে কী?’ মাহিফ বুঝিয়ে বলল, ‘আরে, দাদিজান একটু আগে মাথা ঘুরে ননসেন্স হয়ে গেছেন।’ আমি তখনো ব্যাপারটা ধরতে পারছিলাম না। জিজ্ঞেস করলাম, ‘মাথা ঘুরে ননসেন্স?’ ও বিরক্ত হয়ে জবাব দিল, ‘কেন, তুমি জানো না দাদিজান যে প্রায়ই মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান? আজকেও ননসেন্স হয়েছেন।’ সব বুঝে আর ওর ইংরেজি জ্ঞান দেখে তখন আমারই ‘ননসেন্স’ হওয়ার জোগাড়!

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কৌতুক .......11



গণিত ম্যাডামের ক্লাস চলছিল। ম্যাডাম ভয়ংকর রাগী। তাঁর ক্লাসে পিনপতন নীরবতা থাকে সব সময়। আমি আর নিপা এক বেঞ্চে বসেছিলাম। ফাজিলটা আমাকে অনেকক্ষণ ধরে ভেঙাচ্ছিল, কিন্তু কিছু বলতে পারছিলাম না। আবার চুপ করে বসেও থাকতে পারছিলাম না। একসময় আমিও ওকে ভেঙাতে শুরু করলাম। ও যা বলে, আমিও তাই বলি। ও জিজ্ঞেস করল, ‘লুসি, বোর্ডের অঙ্কটা খাতায় তুলেছিস?’ আমিও তা–ই বললাম, ‘লুসি, বোর্ডের অঙ্কটা খাতায় তুলেছিস?’ ও চোখ পাকিয়ে বলল, ‘ফাইজলামি না। ম্যাডাম কিন্তু এখনই চেক করবেন।’ আমিও চোখ পাকিয়ে একই কথা বললাম। হঠাৎ ম্যাডাম আমাদের দিকে তাকিয়ে হুংকার দিয়ে উঠলেন, ‘কী রে! কী হলো তোদের?’ ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে আমি বলে বসলাম, ‘কী রে! কী হলো তোদের?’
নাহ্, অন্ধ অনুকরণ সত্যিই খারাপ!

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ঝামেলা

অলংকরণ: মাসুক হেলাল


টুনিকে নিয়ে পারা গেল না। বাড়িতে ওর ভয়ডর বলতে কিছু নেই। যত ভয় বাড়ির বাইরে এলে। কিছুতেই ওজন মাপার যন্ত্রে উঠতে চাইছে না।
তিন দিন ধরে টুনির জ্বর। মা-বাবা ওকে নিয়ে এসেছেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার ওর পেট টিপলেন, কপালে হাত দিলেন, পিঠে হাত বোলালেন। তারপর মুচকি হেসে বললেন, জটিল কিছু না। এমনি জ্বর। ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।
ওষুধের মাত্রা লিখতে গিয়ে হঠাৎ ডাক্তার সাহেবের মনে হলো, ওজন জানা দরকার। ওজন না জেনে ওষুধ দেওয়া যায় না। ওষুধও এখন ওজনের ওপর নির্ভর করে। টেবিলের তলা থেকে ওজন মাপার যন্ত্রটা টেনে বের করলেন ডাক্তার। তারপর টুনির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এখানে উঠে দাঁড়াও তো মা।’
টুনি ছিল বাবার কোলে। বাবাকে একেবারে ঘাপটি মেরে ধরে আছে, দুহাত দিয়ে বাবার গলা আর পা দুটো দিয়ে বাবার পেট। ভাবটা এমন, কেউ আমারে বাবার কোল থেকে সরাতে পারবা না।
বাবার কোল ওর ভীষণ প্রিয়।
ডাক্তার সাহেব হাসতে হাসতে বললেন, ‘ওজন না মাপলে কেমন করে হবে?’
বলে নিজেই টুনিকে ওজন মাপার যন্ত্রের উপর দাঁড় করাতে চাইলেন। কিন্তু বাবার কোলে ঘাপটি মেরে আছে টুনি। রেগে গেলেন মা, ‘টুনি! বাবার কোল থেকে নামো বলছি।’
উঁহু। টুনি বাবার কোল পেয়েছে। আর কারও কথা এখন ওর কানে ঢুকবে না। তার ওপর ওর জ্বর হয়েছে। এমনিতেই বাবার আহ্লাদের কমতি নেই। এখন জ্বরের সময় বাবার আহ্লাদ আরও বেশি। কিন্তু ওজনটা তো মাপতে হবে!
এবার বাবা ওর মাথায় হাত বোলাতে লাগলেন। হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘দেখি মা, এবার এখানে একটু দাঁড়াও তো!’
টুনি বলল, ‘না, আমি উঠব না।’
বাবা জানতে চাইলেন, ‘কেন?’
‘আমার ভয় করে।’
‘কিসের ভয়? এখানে তো আমরা সবাই আছি। কোনো ভয় নেই মা।’
‘তাহলে তুমিও আমার সঙ্গে ওঠো।’
বাবা বুঝিয়ে বললেন, ‘উঁহু। আমিসহ উঠলে তো তোমার ওজন জানা হবে না।’
টুনি এবার সাফ সাফ জানিয়ে দিল, ‘তুমি না উঠলে আমিও উঠব না।’
মা কিন্তু তখন থেকেই বিরক্ত। মুখ খিঁচিয়ে বললেন, ‘কী যন্ত্রণা!’
বাবা হাসতে হাসতে বললেন, ‘যন্ত্র যন্ত্রণা।’
মা বললেন, ‘ডাক্তার সাহেব, যা হয় একটা ওজন ধরে...’
ডাক্তার বললেন, ‘তা হয় না। শিশুদের আন্দাজে ওষুধ দেওয়া ঠিক নয়।’
মা বললেন, ‘তিন মাস আগে একবার ওজন মাপিয়েছিলাম। তখন ১২ কেজি ছিল।’
বাবা বললেন, ‘এখনো মনে হয় ওজন ১২ কেজির বেশি হবে না।’
ডাক্তার বললেন, ‘মনে হলে তো হবে না। সঠিক ওজন জানা চাই।’
কী মুশকিল! ওদিকে বাইরে আরও রোগী অপেক্ষা করে আছে। মা-বাবা দুজনই বড্ড বিব্রত।
তক্ষুনি ডাক্তারের ঘরে ঢুকে পড়লেন করিম চাচা। বাজারের মুদি দোকানি। ভালোমতোই চেনেন বাবা। বাবা চট করে টুনিকে দুহাতে তুলে নিলেন। তারপর করিম চাচার হাতে দিয়ে বললেন, ‘ধরে দেখুন তো চাচা।’
করিম চাচা তো অবাক! এসেছেন তাঁর ভাগনেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে। টুনিকে ধরে কোলে নিলেন চাচা। বাবা বললেন, ‘আপনি তো সারা দিন মাপামাপি করেন। আপনার ওজনের আন্দাজও ভালো। বলুন তো ওর ওজন কত?’
করিম চাচার মুখ হাসি হাসি থাকে সারা দিন। এখনো হাসিমুখে বললেন, ‘মনে হয় সাড়ে ১৩ কেজি।’
বাবা এবার ডাক্তারের দিকে তাকালেন। ডাক্তার বললেন, ‘মনে হলে হবে না। সঠিক ওজন চাই।’
বাবা আবার অনুরোধ করলেন টুনিকে, ‘মা। ওজন মাপার যন্ত্রে উঠতে চাইছিস না কেন?’
টুনি বলল, ‘বললামই তো, আমার একা একা উঠতে ভয় করে।’
তাহলে...
বাকিটা বাবার কানে কানে বলল টুনি। ফিস ফিস করে। আর কী অবাক! তখনই টুনিকে নিয়ে যন্ত্রটায় উঠলেন বাবা। বাবা আর টুনি—দুজনের ওজন ৭৬ কেজি। টুনিকে মায়ের কোলে দিয়ে বাবা এবার একা উঠলেন ওজন মাপার যন্ত্রে। ৬৩ কেজি। করিম চাচা এবার ঝটপট টুনির ওজন বের করে ফেললেন—১৩ কেজি।
বাহ্! বাবা মুগ্ধ হয়ে টুনির দিকে তাকিয়ে রইলেন। শুধু বাবা নয়, ডাক্তার আঙ্কেল, করিম চাচা আর মাও টুনির দিকে তাকালেন। ঝটপট ওষুধের মাত্রা লিখে বাবার হাতে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিলেন ডাক্তার।
কিন্তু বুদ্ধিটা বড়দের মাথায় এল না কেন? চার বছরের টুনির মাথায়ই-বা এল কেমন করে? সবচেয়ে বড় কথা হলো, ওজন মাপার যন্ত্রে টুনি একা উঠলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। বড়দের এই এক সমস্যা। সব ব্যাপারে ছোটদের জোরাজুরি করা চাই। বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু করতেই পারে না। এই যে টুনি ওর ওজন বের করার একটা সুন্দর উপায় বাতলে দিল, এ জন্য তো ওর বাহবা পাওয়ার কথা। তা নয়, ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরোতে বেরোতে উল্টো মা ওকে বললেন, ‘তুমি বড্ড ঝামেলা করো টুনি!’

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

হতে হবে আশাবাদী

বিল গেটস



মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে যুক্ত আছেন।

অভিনন্দন, ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷ মেলিন্ডা ও আমি আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত৷ তোমাদের এই ক্যাম্পাস অনেক দিক থেকেই অসাধারণ৷ তবে আমাদের যদি একটি শব্দে বলতে হয় স্ট্যানফোর্ডের কোন বিষয়কে আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি, তা হবে আশাবাদী মনোভাব৷
১৯৭৫ সালে এই আশা নিয়েই আমি বোস্টনের এক কলেজ ছেড়ে এসে কাজে নেমে পড়েছিলাম৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার পৃথিবীজুড়ে মানুষের জীবনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারবে, পৃথিবীকে আরও অনেক উন্নত করে তুলবে৷ কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে৷ আমরা যা শিখেছি, আজ সেসব তোমাদের বলতে চাই৷ আর জানাতে চাই, কীভাবে আমরা সবাই আরও অনেক মানুষের জন্য অনেক কিছু করতে পারি৷
যখন পল অ্যালেন আর আমি মাইক্রোসফট শুরু করেছিলাম, তখন আমদের লক্ষ্য ছিল কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের ক্ষমতাকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো৷ ১৯৯৭ সালে আমি ব্যবসার কাজে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাই৷ একদিন আমি কৌতূহলবশত শহরের একটু দূরে সোয়েটো নামে একটা জায়গায় যাই; এমন জায়গা আমি জীবনে কখনো দেখিনি৷ মাইক্রোসফট সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কম্পিউটার ও সফটয়্যার বিতরণ করেছিল, যেভাবে আমেরিকায় আমরা কাজ করতাম৷ কিন্তু আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বুঝে গেলাম, এটা আমেরিকা নয়৷ এর আগে আমি দারিদ্র্যকে দেখেছিলাম পরিসংখ্যানে, নিজের চোখে নয়৷ সেখানে গিয়ে আমি দেখলাম, কীভাবে মানুষ বিদ্যুৎ, পানি, টয়লেট ছাড়াই বস্তিতে থাকছে৷ বেশির ভাগের পায়েই কোনো জুতা ছিল না, জুতা পায়ে হাঁটার মতো রাস্তাও ছিল না৷ যে কমিউনিটি সেন্টারে আমরা কম্পিউটার দান করেছিলাম, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ছিল না৷ তাই তারা ২০০ ফুট লম্বা তার দিয়ে ডিজেলচালিত একটি জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে কম্পিউটার চালিয়ে রেখেছিল৷ অবস্থা দেখে আমি ভালোভাবেই বুঝলাম, যে মুহূর্তে আমি আর আমার সঙ্গের লোকজন চলে যাব, তৎক্ষণাৎ এই জেনারেটরও অন্য কোথাও চলে যাবে৷ আর কমিউনিটি সেন্টারের লোকেরাও তাদের জীবনের অন্য হাজার সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত হয়ে পড়বে; সেসব সমস্যা কখনো কম্পিউটার দিয়ে সমাধান করা যায় না৷
গণমাধ্যমের সামনে এসে আমি আগে থেকে তৈরি করে রাখা বক্তৃতা পড়ছিলাম৷ বলছিলাম, ‘সোয়েটো প্রযুক্তির বিভাজনকে ঘুচিয়ে দেওয়ার যাত্রায় একটি মাইলফলকের নাম৷’ কিন্তু মুখে যা-ই বলি, আমি বুঝতে পারছিলাম, এসব কথার কোনো অর্থ নেই৷ 
সোয়েটোতে যাওয়ার আগে আমি ভাবতাম, আমি পৃথিবীর সমস্যা বুঝি, কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো নিয়েই আমার কোনো ধারণা ছিল না৷ আমার এত অসহায় লেগেছিল যে আমি নিজের বিশ্বাসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলাম, আদৌ কি উদ্ভাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব? আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, দ্বিতীয়বার আফ্রিকায় পা দেওয়ার আগে আমাকে বুঝতে হবে দারিদ্র্য আসলে কী৷
অনেক পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আমি একটি যক্ষা হাসপাতাল দেখতে গিয়েছিলাম৷ সেটি একটি বিশেষ ধরনের যক্ষা রোগীদের জন্য, যাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগেরও কম৷ গোটা হাসপাতাল রোগীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে৷ রোগীদের মধ্যে আমি এক নারীর সঙ্গে কথা বললাম, তার বয়স মাত্র ত্রিশের কোঠায়৷ সে আগে এক যক্ষা হাসপাতালে কাজ করত, একদিন তার নিজেরও যক্ষা ধরা পড়ে, সঙ্গে এইডস৷ সে জানত, তার দিন ফুরিয়ে এসেছে৷ আর তার মৃত্যুর পর যখন সেই বিছানা খালি হয়ে যাবে, সেখানে জায়গা করে নিতেও রোগীদের এক বিশাল লাইন অপেক্ষা করে আছে৷ তারা অপেক্ষা করছে সেই দিনের৷
আমি গাড়িতে উঠে সেখানকার এক ডাক্তারকে বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি জানি এ ধরনের যক্ষা সারিয়ে তোলা মুশকিল৷ কিন্তু কোনো না কোনো উপায় নিশ্চয়ই আছে৷ এসব মানুষের জন্য আমাদের কিছু করতেই হবে৷’
আমি আজ আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি এ বছর আমরা যক্ষার এক নতুন ধরনের ওষুধের পরীক্ষা করতে যাচ্ছি৷ আগে যেখানে ১৮ মাস ধরে প্রায় দুই হাজার ডলার খরচের পরও শতকরা ৫০ জনের বেশি রোগীকে সুস্থ করা যেত না, এখন সেখানে ছয় মাসের চিকিৎসায় ১০০ ডলারের কম খরচেই শতকরা ৮০ থেকে ৯০ জন রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে৷ এখানেই আশাবাদের শক্তি নিহিত৷ কে বলেছে আমরা দারিদ্র্য কিংবা রোগব্যাধিকে মির্মূল করতে পারব না? আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷
আমি হতাশাবাদীদের দলে নই৷ কিন্তু আমাদের স্বীকার করতে হবে যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে যদি আমরা বৈষম্য দূরীকরণের কাজে না লাগাই, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা এমন সব উদ্ভাবন নিয়ে বসে থাকব, যা পৃথিবীকে আরও বিভক্ত করে ফেলবে৷ উদ্ভাবন দিয়ে কী হবে, যদি তা স্কুলে শিক্ষার মান না বাড়ায়? যদি ম্যালেরিয়া নির্মূল করা না যায়, দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব না হয়, দরিদ্র কৃষকের অন্নের নিশ্চয়তা না থাকে?
তোমরা স্নাতকেরা অসংখ্য উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে, পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ তোমাদের বয়সে আমি পৃথিবীকে যতটা চিনতাম, আমি বিশ্বাস করি, আজ তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি জানো৷ আমি যা করেছি, তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করতে পারবে, যদি তোমরা এতে তোমাদের মনপ্রাণ ঢেলে দাও৷ আমি সেই প্রত্যাশায় রইলাম৷
সূত্র: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
১৫ জুন, ২০১৪ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া বিল গেটসের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশের অনুবাদ: 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আপনার বুদ্ধি কেমন? জেনে নিন এই সহজ কুইজটির মাধ্যমে!


আপনার বুদ্ধি কেমন? জেনে নিন এই সহজ কুইজটির মাধ্যমে!

দৈনন্দিন জীবনে বুদ্ধি ছাড়া আপনি এক পাও এগোতে পারবেন না। জন্ম থেকে শুরু করে অনেকগুলো বছর আমরা পড়াশোনা করি, জ্ঞান অর্জন করি, সেটা তো আসলে বুদ্ধি বাড়ানোর জন্যই। কিন্তু আসলে কি সেটা হয়? অনেকের ক্ষেত্রে যেটা হয়, তা হলো ভালো রেজাল্ট আর ডিগ্রী অর্জন। বুদ্ধির বিকাশ আসলে কয়জনের মাঝে ঘটে, সেটা একটা বিতর্কের ব্যাপার। এই যে বছরের পর বছর পড়াশোনা, এর ফলে আসলেই নিজের বুদ্ধির যথেষ্ট বিকাশ ঘটেছে কিনা তা জানতে কখনও ইচ্ছে করেছে আপনার? যদি সে ইচ্ছে হয়ে থাকে, তবে আপনার জন্যেই এই কুইজ। দেখে নিন, আপনার বুদ্ধি আসলে যথেষ্ট কিনা।
এই কুইজের একটা ছোট্ট শর্ত আছে। প্রতিটি প্রশ্ন পড়ে প্রথম যে উত্তর মাথায় আসবে সেটাই দিতে হবে, কোনও রকম চুরি কিন্তু করা যাবে না মোটেই! উত্তর গুলো দিন,তারপর নিচে দেখুন ফলাফল।
কুইজঃ
১. আসুন সাধারণ একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক। আপনার ভাগনীর ভাই সম্পর্কে আপনার কে হয়, বলুন তো?
ক) জানি না তো!
খ) মামাতো ভাই?
গ) ভাগিনা!
ঘ) মামা হতে পারে......
ঙ) ছেলে?
২. একজন মানুষের সাধারণত গড়ে কয়টা জন্মদিন পালন করা হয়?
ক) জানি না
খ) ১ টাই
গ) ১০ টার পড়ে আর জন্মদিন পালন করা হয় না
ঘ) ৬৫ টা সম্ভবত
ঙ) ৭৫ টা পর্যন্ত হতে পারে
৩. কিছু মাসে ৩১ টা দিন থাকে। কয়টা মাসে ২৮ টা দিন আছে?
ক) জানি না
খ) অবশ্যই মাত্র ১ টা মাসে
গ) উম.... ২ টা মাসে?
ঘ) ১২ মাসে?
৪. স্কটল্যান্ডের আইনে একজন মানুষ কি নিজের বিধবা স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করতে পারে?
ক) স্কটল্যান্ডের আইন জানবো কি করে?
খ) হতেও পারে.....
গ) অসম্ভব!
৫. আসুন এবার একটু অংক কষি। ৩০ কে ভাগ করুন ১/২ (আধা) দিয়ে, এরপর এর সাথে ১০ যোগ করুন। কত হয়?
ক) বেশি কঠিন অংক! করতে পারবো না!
খ) ২৫ হবে
গ) ৭০ হবে
ঘ) ৪০....?
৬. আপনার কাছে ৩ টা আপেল আছে। আপনি তার থেকে দুইটা আপেল নিয়ে নিলেন। কয়টা থাকলো?
ক) জানি না
খ) একটা
গ) দুইটা!
ঘ) তিনটাই থাকবে
৭. এবার আসুন জীবনের জন্য জরুরি একটা ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করা যাক। ডাক্তার আপনাকে তিনটা পেইনকিলার দিয়ে বলল, প্রতি আধা ঘণ্টা পর পর একটা করে খেতে হবে। কয় মিনিট পর ওষুধগুলো শেষ হয়ে যাবে?
ক) জানি না.....
খ) ৯০ মিনিট
গ) ১৮০ মিনিট
ঘ) ৬০ মিনিট
৮. একজন কৃষকের ১৭ টি গরু আছে। ৯ টা বাদে সব মরে গেল। কয়টা বেঁচে থাকলো?
ক) জানি না
খ) ৮ টা
গ) ৯ টা
৯. আপনি কি খেলাধুলা করতে পছন্দ করেন? ছোটবেলায় নিশ্চয়ই দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। এবার কল্পনা করুন, আপনি প্রাণপণে দৌড়াচ্ছেন, দৌড়াচ্ছেন তো দৌড়াচ্ছেনই। দৌড়াতে দৌড়াতে আপনি দ্বিতীয় স্থানে থাকা মানুষটিকে অতিক্রম করে গেলেন। এবার আপনি কততম অবস্থানে আছেন?
ক) জানি না
খ) প্রথম!
গ) দ্বিতীয়
ঘ) তৃতীয়
১০. মেরির বাবার পাঁচ মেয়ে। তারা হলো টিনা, মিনা, নিনা, রিনা। অন্যজনের নাম কি?
ক) আমি কি করে জানবো?
খ) লিনা?
গ) বীণা
ঘ) মেরি.......
১১) মোজেস/ মেসিয়াহ/ মুসা নবীর নৌকায় কয়টা পুরুষ প্রাণী আর কয়টা মেয়ে প্রাণী ছিলো?
ক) জানি না
খ) ২০ টা
গ) অনেক অনেক
ঘ) শূন্য
১২) এবার সবচাইতে কঠিন অংকটা করি আসুন। কোনও ক্যালকুলেটর ব্যবহার করবেন না, মাথার ভেতর অংক করুন! ১০০০ এর সাথে ৪০ যোগ করুন। আবার এর সাথে ১০০০ যোগ করুন, তারপর ৩০ যোগ করুন। ১০০০ যোগ করুন। যোগফলের সাথে ২০ যোগ করুন। আরও ১০০০ যোগ করুন। এরপর ১০ যোগ করুন। কত হলো?
ক) জানি না
খ) ৫০০০
গ) ৬০০০
ঘ) ৪১০০
উত্তরঃ
১- গ) মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
২- খ) বয়স যতই হোক, জন্মদিন একটাই থাকে!
৩- ঘ) ২৮টার বেশি দিন থাকতে পারে, কিন্তু প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৮ টা দিন তো আছেই, তাই না?
৪- গ) আপনার স্ত্রী বিধবা মানে আপনি ইতোমধ্যেই মৃত। এরপর আবার স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করবেন কি করে?
৫- গ) উত্তর হলো ৭০। কারন আধা দিয়ে যে কোনও কিছুকে ভাগ করলে সেটা দ্বিগুণ হয়ে যায়!
৬- ঘ) আপনি নিজেই তো আপেল নিচ্ছেন, তাহলে তিনটাই তো থাকবে আপনার কাছে!
৭- ঘ) উত্তর হলো ৬০ মিনিট। প্রথমটি খাবার ৩০ মিনিট পর অন্যটা খাবেন, তার ৩০ মিনিট পড়ে শেষটা। অর্থাৎ মত ৬০ মিনিটে শেষ হয়ে যাবে ওষুধ।
৮- গ) ৯ টা বাদে সব মরে গেল মানে তো ৯ টা বেঁচে গেছে, বাকিগুলো মরে গেছে। নয় কি?
৯- গ) দ্বিতীয় স্থানে থাকা মানুষটির স্থান আপনি নিয়ে নিলে আপনিই তো দ্বিতীয় হয়ে যাচ্ছেন!
১০- ঘ) মেরির বাবার পাঁচ মেয়ে, অন্যদের কথা বাদ দিলেও তিনি যেহেতু “মেরি”র বাবা তাই মেরি নামের একটা মেয়ে তো তার থাকবেই, তাই না?
১১- ঘ) মুসা নবী/ মোজেস/ মেসিয়াহ- এর নৌকা ছিলো না, নূহ নবীর ছিলো!
১২- ঘ) উত্তর হলো ৪১০০। বিশ্বাস হচ্ছে না? ক্যালকুলেটর ব্যবহার করেই দেখুন!
ফলাফলঃ
প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর করে ধরুন।
০-২ নম্বরঃ জীবনে নিশ্চয়ই অনেকবার "মাথা মোটা", "গর্দভ" ইত্যাদি গাল শুনেছেন? আপনি অবশ্যই মাথামোটা গর্দভ নন, তবে নিজের বুদ্ধির ব্যবহার করছেন না মোটেই।
৩-৬ নম্বরঃ আপনি হয়তো অনেক পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু নিজের মাথাটাকে ঠিকভাবে খাটাতে শেখা বাকি আছে এখনও। কোনকিছুই মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন না আপনি, তাই সহজ উত্তরগুলো চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।
৭-৯ নম্বরঃ ভালো লক্ষণ। আপনি পড়াশোনায় ভালো হন বা খারাপ হন, আপনার মস্তিষ্কটা মোটামুটি সচল।
১০-১২ নম্বরঃ বাহ! আপনার মস্তিষ্ক যথেষ্ট সক্রিয়। চালিয়ে যান!

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS