Md. Afrooz Zaman Khan

Afrooz
Md. Afrooz Zaman Khan. Powered by Blogger.
RSS

বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করি



ফিলিপ হিউজ (১৯৮৮–২০১৪)


আজ ৩০ নভেম্বর ফিলিপ হিউজের জন্মদিন। বয়স ছাব্বিশ ছোঁয়ার আগেই খেলার মাঠে মাথায় বলের আঘাতে ২৭ নভেম্বর লোকান্তরিত হন এই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার। হিউজের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ নভেম্বর। তিনি ২৬ টেস্টে তিনটি সেঞ্চুরিসহ ১৫৩৫ রান, ওডিআইতে ২৫ ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৮২৬ রান আর ৩৪টি টি-টোয়েন্টিতে ১১১০ করেছেন। হিউজ ২০০৯ সালে ব্র্যাডম্যান ইয়াং ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। অকালপ্রয়াত এই ক্রিকেটারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই লেখাটি প্রকাশিত হলো।

খেলার মাঠে মনঃসংযোগ ধরে রাখা বেশ কঠিন। যত বয়স বাড়ে ততই ক্রিজে মনঃসংযোগ ভালোভাবে করা সম্ভব। আমার মনে হয় আমি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছি। সাবেক খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ২৮-২৯ বছর বয়সে পরিণত ক্রিকেটার হওয়া যায়। আমার পরিণত ক্রিকেটার হতে আরও সময় লাগবে। আমি চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। নিজেকে ভাগ্যবানই বলতে হয়। আমার মনে হয় এই চার বছরে আমার খেলা অনেকটাই বদলে গেছে। খেলার মাঠে হোক বা মানসিকভাবে হোক সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলার অনেক ভেতরে আমি প্রবেশ করে চলেছি। ধীরে ধীরে আমি নিজেকে পরিণত ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। 
অ্যাশেজের মতো বড় খেলার আসরে আমরা ভীষণ চাপে থাকি। এমন সময় নিজেদের শান্ত রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে আমাদের। পুরো দল এক হয়ে থাকার জন্য সে সময়গুলোতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়। আমার চার বছর আগের ঘটনা প্রায়ই মনে পড়ে। সেবার আমরা অ্যাশেজ হেরেছিলাম। শুধু আমিই নই, পুরো দলটি হতাশায় ডুবে গিয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। সেই ঘটনা আমার মনে ভাসে সব সময়। আমি বড় হয়েছি অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্নে, সে জন্য এটা নিশ্চয়ই আমার জন্য ভীষণ কষ্টের ছিল।
দল থেকে বাদ পড়া ভীষণ কষ্টের। কিন্তু খেলা খারাপ হলে দল থেকে বাদ পড়তেই হবে। আমি একবার দল থেকে রান না করার জন্য বাদ পড়েছিলাম। মাত্র তিন ম্যাচে ব্যাটিং করে রান না পাওয়াতে আমি বাদ পড়ি। সে সময়টা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমি কাউন্টি খেলায় রান পাচ্ছিলাম। সেখানে ব্যাটিং ঠিকমতোই করতে পারছিলাম। কিন্তু লর্ডসে আমি বাদ যাই। ক্রিকেট খেলা চাপের খেলা। সব সময় এখানে চাপ থাকবেই। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পর্যায়ে চাপের মাত্রা সব সময়ই ভোগ করতে হয়। আপনি যখন এখানে হেরে যাবেন, তখন বেশি চাপ আপনার দিকে আসবেই। আমার ক্ষুদ্র ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমরা কোনোই টেস্ট ম্যাচে জিততে পারিনি। এমন সময় নিজেকে ভীষণ একা মনে হবে আপনার। মনে হবে আপনি একাই দলের একমাত্র সদস্য। পরাজয়ের জন্যই এমন অনুভূতি তৈরি হবে আপনার মধ্যে। কিন্তু নিজেকে বদলে দলের জন্য কিছু করাটাই তখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের খেলা দিয়ে দলে জায়গা ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। 
খেলার মাঠে নিজেকেই নিজের সুযোগ তৈরি করে নিতে হয়। কিন্তু বাদ পড়ে গেলে সেই সুযোগ আবার তৈরি করা ভীষণ কঠিন। ভালো ক্রিকেট খেলা আর বড় স্কোর দিয়ে দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে হয়। দল থেকে বাদ পড়ার অনুভূতি ভীষণ কষ্টের কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পাওয়া যায়।
সুযোগ পেলে তাকে লুফে নিতে হবে। আমি লর্ডসে ক্রিকেট খেলার সময় এমন সুযোগ পেয়েও লুফে নিতে পারিনি। এক ম্যাচে ৮০ রান করার পর পরপর তিন ম্যাচে কম রানে আউট হই আমি। আমি দুবার বাদ পড়ি। আমার পুরো ক্যারিয়ারে অনেক ম্যাচেই আমি কম রানে আউট হয়ে গেছি। কিন্তু বড় করার সুযোগ পেলেই আমি রান এগিয়ে নিয়ে যাই। আমি ধীরে-সুস্থে ২০ কিংবা ৩০ রান করার পরেই রানকে আরও বড় করার চেষ্টায় মনোযোগ দিই। আমার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এটাই বলে। আমি রান করতে পারি।
আমি তিন ধরনের ক্রিকেটই মনোযোগ দিয়ে খেলার চেষ্টা করি। আমি পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যান হতে চাই। একদিন আমি তিন ধরনের ক্রিকেটেই পূর্ণাঙ্গ ব্যাটসম্যান হবই। এর জন্য আমার অনেক কাজ করতে হবে। সুযোগ তৈরি করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটের পরিপূর্ণ স্বাদ আমি পেয়েছি। আমি ক্রিকেটের খুদে সংস্করণের জন্য নিজেকে তৈরি করছি। আমি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পছন্দ করি। এটাই আমার সহজাত খেলা। সামনের পা এগিয়ে নিয়ে আক্রমণ করতেই আমার আগ্রহ বেশি। এর মধ্য দিয়েই আমি ক্রিকেট খেলা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমার খেলার জন্য আরও পরিশ্রম করতেই হবে। লেগ সাইডের শটের জন্য আরও কাজ করতে হবে। আমি ধীরে ধীরে একদিনের ক্রিকেটের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছি।
৩ নম্বরে ব্যাটিং হোক আর যেকোনো জায়গায় ব্যাটিং হোক খেলার মাঠের পরিবেশ আর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সব। আমি মাঠে কখনো রান করি, আবার কখনো কঠিন বোলিংয়ের জন্য রান করতে পারি না। ধীরে ধীরে মাঠে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। সারা বিশ্বের ভালো খেলোয়াড়েরা মাঠের পরিবেশ আর পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেরা মানিয়ে নিয়ে ইনিংস বড় করে। আমিও সেই চেষ্টা করি।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কিশোর আমদানিকারক


জোনাথান কুন

 কিশোর আমদানিকারক

চীনা-মার্কিন কিশোর জোনাথান কুন। চীন থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমেরিকায় আমদানি করেই কোটিপতি হয় কিশোর কুন। ১৬ বছর বয়সে স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করে সে। বছর না পেরোতেই নামের আগে মিলিওনেয়ার তকমা জুটে যায় তার। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় প্রায় ৮০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৪ কোটি টাকা।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ওয়েবসাইট বানিয়েই কোটিপতি



জুলিয়েট ব্রিনদ্যাক


ওয়েবসাইট বানিয়েই কোটিপতিমাত্র ১৬ বছর বয়সে এক লাখ ডলার আয় করে মার্কিন কিশোরী জুলিয়েট ব্রিনদ্যাক। মিস ও ফ্রেন্ডস নামে দুটি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট তৈরি করে আলোচিত হয় সে। কিশোরীদের জন্য বিশেষায়িত এই সাইট দুটি জুলিয়েটকে কোটিপতি বানিয়ে দেয়। বর্তমানে তার আয় ১৫ লাখ ডলারের বেশি, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ কোটি টাকা।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

নিজের হাতেই নিজের ভবিষ্যৎ: মাইকেল শুমাখার

মাইকেল শুমাখার


মাইকেল শুমাখারের জন্ম ১৯৬৯ সালের ৩ জানুয়ারি, জার্মানিতে। তিনি সাতবার মোটর রেসিংয়ের ফর্মুলা ওয়ান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন। চালকদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইউনেসকোর সচেতনতা কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত শুমাখার। নানান দাতব্য সংস্থায় এক কোটি ডলারেরও বেশি দান করে তিনি আলোচিত।
আমাকে নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু বলেন। সেরা খেলোয়াড়, আদর্শ, আইকন। এ শব্দগুলো বেশ অস্বস্তিকর। আমি জানি আমি কী। আমার নেশা মোটর রেসিং। পেশা দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা। এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে প্রতিমুহূর্তে, কিন্তু তার পরও আমি ছুটে চলি। সব সময় আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ শুরু করি। যার কারণে বাকি কাজটুকু নিয়ে দ্বিধায় পড়ি না। মোটর রেসিং খেলায় এক সেকেন্ডের সঙ্গে আরেক সেকেন্ডের কোনো মিল নেই। তাই এখানে জীবনের সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ খুঁজে পাওয়া যায়।
আমি আমার কাজটুকু জানি, বুঝি। তাই যেকোনো চাপেই মানিয়ে নিতে পারি। যেকোনো চাপে মানিয়ে নেওয়াই বড় বাধা। ফেরারি গাড়ি যখন চালাতাম, তখন পুরো ইতালি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকত। একটা শহর না, পুরো একটা দেশের কোটি কোটি চোখ থাকত আমাদের ওপর। এটা অনেকটা ফুটবল ক্লাবের মতন। আমাকে কেউ কেউ ‘পোপ’ বলে ভাবত। আমি আসলে নিতান্তই এক গাড়িচালক, যে কিনা অন্যদের চেয়ে একটু বেশি জোরে গাড়ি চালাতে পারে।
সত্যিকার অর্থে আমি কখনই মাইকেল শুমাখার হতে চাইনি। আমি নিজের আনন্দের জন্য সব করতাম। শখের বশেই গাড়ি চালানোর দুনিয়ায় আমি আসি। ভাঙা আর নড়বড়ে গাড়ির যন্ত্রপাতি দিয়ে আমার দুনিয়া আমি নিজ হাতে সাজানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। আমার ওজন কম ছিল বলেই হয়তো আমি রেসিংয়ে জিতে যেতাম। এখন আমি মাইকেল শুমাখার হয়ে পরিচিতি পাওয়ায় ভীষণ বিপদে পড়ে গেছি। আমার এখন টাকাপয়সা আছে, আছে স্বাধীনতা। কিন্তু আমার বাইরে ঘুরতে যাওয়াই এখন অসহ্য লাগে। চারদিকে ক্যামেরা আর ভক্তদের দৌড়াদৌড়ির জন্য আমাকে পালিয়ে থাকতে হয়।
আমার বাবা আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না। তিনি বেশ ধার-দেনাগ্রস্ত ছিলেন। আমি বাবাকে অবাক করার চেষ্টা করতাম। রেসিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাবাকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। তাই তো প্রথম রেস বিজয় শেষে বাবাকে অবাক করার জন্য এক স্যুটকেস টাকা দিয়েছিলাম। বাবা বিশ্বাস করেননি। সেটা ছিল আমার জন্য অনন্য এক অভিজ্ঞতা। সাফল্যের প্রথম সূত্র অনুপ্রেরণা। আমার বাবাই আমার সব প্রেরণা।
আমি কোনো রেকর্ড গড়ার জন্য কিংবা ভাঙার জন্য খেলতে নামি না। আমি গাড়ি নিয়ে উড়তে পছন্দ করি। আপনি চিন্তা করুন, হাতে হুইল আর পায়ের নিচে ব্রেক, আপনার কথামতো ছুটছে গাড়ি, এর চেয়ে থ্রিলিং আর কী হতে পারে! আমি সব সময়ই এমন অভিজ্ঞতার জন্য মুখিয়ে থাকি। জীবনটাই গতি, এখানে থেমে থাকার কিছু নেই।
আমি ভাগ্যে প্রচণ্ড বিশ্বাসী। প্যারাস্যুট দিয়ে বিমান থেকে চোখ খুলে নামতে পছন্দ করি। মোটরবাইকও চালাই। পাহাড়ে চড়ি, স্কেটিং করি। সময়কে উপভোগ করার জন্য ঘুরতে পছন্দ করি। শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোন যত বেশি প্রবাহিত করা যায়, ততই জীবন উপভোগ্য। সবকিছুতে আনন্দ খোঁজাই আনন্দের কাজ। আমি কখনোই থামতে চাই না, এটা আমার জন্য সম্ভব নয়।
দিনশেষে মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের সততা। সততা আর বিনয় একজন মানুষকে অনেক ওপরে নিয়ে যায়। প্রত্যেক মানুষের হাতেই লুকিয়ে আছে তার ভবিষ্যৎ। মানুষ নিজেই তার ভবিষ্যৎ গড়ে। আমাদের শুধু বর্তমানকেই নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। আর তাহলে ভবিষ্যৎ এসে আপনার দুয়ারে কড়া নাড়বে। কাজ করুন, অপেক্ষা করুন, দেখবেন সম্ভবনাময় এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।
একবার জয়ী হলেই সব শেষ না, আবারও মাঠে নামতে হয়। জয়কে ধরে রাখতে হয়। যেদিন অবসরের সময় হবে, সেদিন পর্যন্ত বিজয়ী হয়ে মাঠে থেকে ফিরে আসাই অমরত্ব। ব্যাপারটা আসলে কোনো পর্বত বছরের পর বছর ধরে জয় করার মতন। আপনি শীর্ষ কোথায় জানেন, পথও চেনেন। কিন্তু কী হবে, সেটা জানেন না। বিজয়ের স্বাদ কেউ একবার পেলে তার নেশা মাথায় জেঁকে বসে। একেকটা সার্কিটে জয় একেকটা স্বাদ। প্রতিটি জয়ের সঙ্গে মিশে থাকে শ্রম আর ঘাম।
মানুষের জীবনে ভুল থাকেই। ভুলের ঘটনা ভুলে যাওয়া বোকামি, আর ভুল নিয়ে পড়ে থাকা আরও বড় বোকামি। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে পা বাড়ানোই সত্যিকারের মানুষের কাজ। আপনি যতই বিখ্যাত হোন না কেন, কোথা থেকে আপনি এসেছেন, কোথায় আপনার শিকড়, তা মনে রাখতে হবে। 
নিজের সমালোচনাকে সব সময় গ্রহণ করা শিখুন। সমালোচকেরা আপনার ভুল ধরবেই। আপনি সেই ভুল থেকে নিজেকে শুধরাবেন। সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়া কষ্টকর। তার চেয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করাই সহজ কাজ। অন্যরা আপনাকে দেখে বাঁকা হাসি হাসবেই। আপনি হতাশ হবেন না। মনে রাখুন, রেসিং হোক আর জীবন হোক, সবখানে বিজয়ী সব সময় একজনই হয়।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট। ২০০৬ সালের ৯ জানুয়ারি জার্মান সাপ্তাহিক স্পিগলকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমি কখনো হাল ছাড়ি না



মারিয়া শারাপোভা

মারিয়া শারাপোভা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত টেনিস খেলোয়াড়। শারাপোভার জন্ম রাশিয়ায়, ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল। এ যাবৎ তিনি টেনিসের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম জয় করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে মারিয়া জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন।
১৭ বছর বয়সে আমি উইম্বলডন জয় করি। এর কয়েক বছরের মধ্যেই মারাত্মকভাবে কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে আমার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমার সামনে অনেক কারণ ছিল, যার জন্য টেনিস খেলাই ছেড়ে দেওয়ার কথা তুলেছিল অনেকে। ইচ্ছা করলেই তখন খেলা ছেড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু হাল না ছেড়ে আবার কোর্টে নামার সাহস করি।
সত্যিকার অর্থে, আমার বেড়ে ওঠা ছিল ছাই থেকে। আবর্জনা থেকে আমার পরিবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। আমার শিকড় কোথায়, সেটা আমি জানি। আমার শুরুর সেই কষ্টের দিনগুলো আমি কখনোই ভুলতে পারব না। আমার বাবা-মা দুজনেই বেলারুশ থেকে আসেন। আমি যখন মায়ের পেটে, তখন চেরনোবিল দুর্যোগ ঘটে। বাবা আর মায়ের কাজ চলে যায়। তাঁদের বাকি জীবনটা অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছে। আমি তাঁদের মেয়ে। বাবা চার বছর বয়সে আমার হাতে টেনিস র্যাকেট তুলে দেন। বাবাই ছিলেন আমার প্রথম কোচ। স্কুলে পড়াশোনা আর বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন টেনিস অনুশীলনে নামতাম।
আমি কোনো কিছু ধরলে তা ছাড়ি না। আমার বিখ্যাত কোনো বন্ধু ছিল না, যার মাধ্যমে আমি খ্যাতি অর্জন করতে পারি। কিংবা আমি ফ্যাশন মডেল নই, যাকে কোনো লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন বিখ্যাত করেছে। মূল কথা হচ্ছে, টেনিসই আমাকে সব দিয়েছে। ইনজুরিতে থাকার সময় যখন ম্যাগাজিন আর পত্রিকায় আমার ছবি দেখতাম, তখন ঠিক থাকতে পারতাম না। হাসপাতালে বসে কোর্টে দৌড়ানোর শব্দ পেতাম। আর দৌড়াব বলেই টেনিস কোর্টে ফিরে আসি।
আমি সব সময় মাঠে থাকতে চাই। প্রতিদিন। জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবি না। মাঠে থাকাই সব। খেলা শেষে ঘেমে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।
আমার বেড়ে ওঠা ছিল রাশিয়ার সোচি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে সোচি নামের বানান করে বলতে হতো। কেউ জানত না সোচি মানচিত্রের কোথায়। এখন আমার জন্য অনেকেই মানচিত্রে সোচি শহরকে চেনে। এটা অনেক আনন্দের। আমি যখন রাশিয়ার পতাকা নিয়ে কোথাও দাঁড়াই, তখন আমার চেয়ে গর্বিত আর কে হয় বলুন?
খেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক টেনিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলাম। যার জন্য মায়ের সঙ্গে প্রায় দুই বছর দেখা হয়নি। তখন আমাদের মুঠোফোন ছিল না, কোনো ই-মেইলও ছিল না। একটা কলম আর এক টুকরা কাগজই ছিল আমার সব। মাকে চিঠি লিখতাম। চিঠি যখন মায়ের কাছে যেত, তখন আমার যে অনুভূতি হতো, তা এখনো শিহরিত করে।
টেনিস খেলার একাডেমিতে অন্য মেয়েরা আমাকে নিয়ে হাসত। বেশি ছোট ছিলাম বলে র্যাগিংয়ের শিকার হতাম। আমাকে টিজ করা হতো। তখন আমি হতাশ হয়ে একা একা কাঁদতাম, কিন্তু আমার লক্ষ্য আমি জানতাম। রেগে দেশে ফিরে গেলে আমি হয়তো আজকের আমি হতাম না। সব সময় আশাবাদী হয়ে থাকলে বিপদে পড়লেও নিজেকে নিজে উদ্ধার করা যায়। কষ্ট করে লেগে থাকতে হয় স্বপ্নের পেছনে।
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জেতা ছিল আমার জন্য বিস্ময়। এটা স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। কখনোই চিন্তা করিনি মাত্র দুই সপ্তাহে পৃথিবীর সেরা সব টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে দেব! ফাইনালে আমি সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে দিই। আমি কতটা দুর্ধর্ষ টেনিস খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলাম, তা ভাবলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। কোনো দিকে মন না দিয়ে টেনিস বলেই আঘাতের পর আঘাত করে গিয়েছি। ফলে ফাইনালে আমার হাতেই ছিল সেরার পদকটি।
বেঁচে থাকার জন্য আমি টেনিস বলকে আঘাত করি, পরিশ্রম করি। আমি সব সময় সবার কাছ থেকে শেখার আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি। বাবা আর মায়ের কাছ থেকেই আমি কৌতূহলী হয়ে ওঠার নেশাটি পেয়েছি। আমার কাছে সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বের বিষয় হলো, প্রথমে ভালো মানুষ হওয়া, তারপর পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে হবে। এটা সত্যি অনন্য এক চ্যালেঞ্জ।
বেঁচে থাকার জন্য বন্ধুর বিকল্প নেই। আমি সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাই, গান গাই। টেনিস নিয়ে পড়ে থাকলেও পরিবারকে সময় দিই। যখন খুব হতাশায় ভুগি, তখন নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিই। নেইলপলিশ হাতে গ্র্যান্ড স্লামের ট্রফিগুলো তোলার স্মৃতি বারবার মনে করে নিজেকে সাহস দিই। আর হতাশার মাত্রা চরমে উঠলে গলা ছেড়ে গান গাই। প্রতিদিন সকালে আমি গান শুনে বাড়ি থেকে বের হই। আমার দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মায়ের হাতের রান্না। মায়ের হাতের বৈচিত্র্যময় রান্নার জন্য বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে আমার। আমি সময় পেলেই বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাই। একই বই কয়েকবার পড়ার বাতিক আছে আমার।
আমাকে কেউ কেউ ‘সুগারপোভা’ নামে ডাকে। অনেক ছোটবেলা থেকে আমি চকলেটের ভক্ত। আমার দাঁতে সব সময় চিনি লেগে থাকত। আমি চাইতাম বড় হয়ে আমি চকলেটের দোকান দেব। বড় হয়ে ব্যবসায়ী হব। সত্যি সত্যি টেনিস খেলার ক্যারিয়ার শেষ করে ব্যবসা করতে নামব।
মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই। নিজেকে সাফল্যের চূড়ায় দেখতে চাইলে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। যখন যা করো, তা-ই উপভোগ করো। বাড়িতে থাকলে টিভি দেখো, সিনেমা উপভোগ করো। হাসো। কিন্তু যখন কাজ করবে, তখন তাকে উপভোগ করো। নিজের প্রতিভা আর বুদ্ধি দিয়ে কঠিন সব কাজকে আয়ত্তে আনাই সফল ব্যক্তিদের কাজ। নিজের জীবনকে নিজেকেই আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়। গণ্ডির মধ্যে না থেকে মাঝেমধ্যে পাগলামি করো। পাগলামি করা শেখো। সামান্য কিছুতেই হাসতে শেখো। হাসিই সবচেয়ে বড় ওষুধ। ঝুঁকি নিতে শেখো। দাঁতে পোকা ধরার ঝুঁকি থাকলেও মাঝেমধ্যে চকলেট খাও। নিজেকে নিয়ে খুশি থাকো!
কিশোর বয়সে যারা টেনিস খেলতে চায়, তাদের জন্য আমার পরামর্শ, লেগে থাকতে হবে। পড়তে হবে, জানতে হবে, খেলতে হবে। সবকিছুর জন্য চাই কঠিন অনুশীলন। ব্যর্থ হলেও লেগে থাকতেই হবে। সফল হলেও লেগে থাকতে হবে।
তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্বপ্ন হোক আকাশে ওড়ার


এ পি জে আব্দুল কালাম



ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের জন্ম তামিলনাড়ুতে, ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ ছাড়াও ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’ খেতাবে ভূষিত। সম্প্রতি ঢাকা সফরে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) ১১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৭ অক্টোবর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এই বক্তব্য দেন।
বন্ধুরা, প্রথমত ধন্যবাদ জানাই আমাকে এখানে কিছু বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে এখানে নিয়ে এসে তোমাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিল। বাংলাদেশকে আমার দুটি কারণে অনেক ভালো লাগে। এক, এ দেশের বিস্তৃত জলরাশি। আজও যখন দিল্লি থেকে উড়ে এলাম তখন দেখছিলাম দেশজুড়ে কত নদী! আসলে তোমাদের নাম হওয়া উচিত ‘ওয়াটার পিপল’। তোমরা খুব সৌভাগ্যবান। আর দুই, এ দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। তোমরা নিজেরাও হয়তো জানো না তৈরি পোশাকশিল্পে তোমরা কতটা উন্নত। আর হ্যাঁ, অবশ্যই আমার ভালো লাগার একটা বড় অংশজুড়ে আছ তোমরা, এ দেশের তরুণ যুবসমাজ। এ দেশের জনসংখ্যা অনেক হতে পারে। কিন্তু মনে রাখবে এর অর্ধেকই তোমরা। তোমাদের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা ও কাজকর্মের ওপরই দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করছে। বাংলাদেশেরও উচিত তোমাদের শক্তিমত্তার কথা মাথায় রেখে তোমাদের যথাযথ ব্যবহার করা। আর তাই আমার একটি পরামর্শ রইল তোমাদের প্রতি। এখন থেকে সবকিছুতে দেশের কথা মাথায় রাখবে। কোনো স্বপ্ন দেখলে নিজের সঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়েও দেখবে, কোনো চিন্তা করলে বাংলাদেশকে নিয়ে করবে আর কোনো কাজে মগ্ন হলে বাংলাদেশের জন্য করবে।
ভারতের তরুণদের সঙ্গে তোমাদের অনেক মিল আছে। যেমন মিল আছে দুই দেশের ইতিহাস থেকে শুরু করে শিল্প-সংস্কৃতি আর সম্পদে। অর্ধশত নদী আমাদের দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবহমান। বিশ্বের সব থেকে সুন্দর এবং সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনও এই দুই দেশজুড়ে রয়েছে। তাই এই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক অটুট। আমার ৮৩ বছরের জীবদ্দশায় গত দুই দশক ধরে দেশে এবং দেশের বাইরে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ তরুণের সংস্পর্শে এসেছি শুধু তাঁদের স্বপ্ন কী সেটা জানতে। তাই যখন তোমাদের কাছে আসার সুযোগ পেলাম সে সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাইনি।
তোমাদের যখন পেলামই তখন আমার জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আমি আজ আলোকপাত করব। সেগুলি হল: জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ, জ্ঞান আহরণ, অনেক বড় সমস্যায় পড়লেও লক্ষ্য থেকে সরে না আসা এবং কোনো কাজে সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোকেই নেতৃত্বগুণে সামাল দিতে পারা।
প্রথমেই তোমাদের আমার একটা ছোট্ট গল্প শোনাতে চাই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার এক স্কুলশিক্ষক ছিলেন শিব সুব্রমনিয়াম আয়ার, যাঁকে দেখলে ‘জ্ঞানের বিশুদ্ধতা’ কথাটার মানে বোঝা যায়। সেই শিক্ষক একদিন একটি পাখির ছবি এঁকেছিলেন। অনেকক্ষণ ধরে শিখিয়েছিলেন পাখি কীভাবে আকাশে ওড়ে। বলেছিলেন, কালাম কখনো কি উড়তে পারবে এই পাখির মতো? সেই থেকে আমার আকাশে ওড়ার স্বপ্নের শুরু। 
ঠিক উড়তে গেলে কী করতে হবে সেটা আমি বলব না। সেটা তোমরা নিজেরাই ঠিক করে নেবে। তবে আমি তোমাদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতে পারি। কথাগুলো তোমরা আমার সাথে বল, ‘সব সময় জীবনের অনেক বড় লক্ষ্য রাখব। মনে রাখব ছোট লক্ষ্য অপরাধের সমান। আমি অব্যাহতভাবে জ্ঞান আহরণ করে যাব। সমস্যা সমাধানের অধিনায়ক হব। সমস্যার সমাধান করব। সমস্যাকে কখনো আমার ওপর চেপে বসতে দেব না। যত কঠিন সময়ই আসুক না কেন কখনোই হাল ছেড়ে দিব না। এভাবেই আমি একদিন উড়ব।’
সবাইকে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। সর্বদা চিন্তা করবে, আমাকে যেন মানুষ মনে রাখে। কিন্তু মানুষ কেন মনে রাখবে, সেটি ঠিক করতে হবে। এই যে চারপাশে এত আলো দেখছ, বাতি দেখছ, বলো তো এই বাতি দেখলেই প্রথমে কার কথা মনে পড়ে? ঠিক, টমাস আলভা এডিসন। এই যে যোগাযোগের জন্য টেলিফোন, এটা দেখলে কার কথা মনে পড়ে? আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। একইভাবে এই বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে প্রথমেই কার কথা মাথায় আসে বলো তো? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সবাই তাঁকে মনে রেখেছে। এভাবে সবাইকে স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে। এমন কিছু করে যাবে, যাতে তোমার অনুপস্থিতিতেও পৃথিবী তোমাকে মনে রাখে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা যখন এল তখন বলি, সফল হলেও প্রথমে কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। আর ওই ব্যর্থতাই আমাকে সফল হতে উজ্জীবিত করেছিল। চ্যালেঞ্জ হলো এই ব্যর্থতাকে দূর করে সফল হওয়ার পথ খুঁজে নিতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন নেতৃত্বের গুণের। সবার মধ্যে যে গুণটি অবশ্যই থাকা প্রয়োজন। মনে রাখবে, একজন যোগ্য নেতার একটি সুনির্দিষ্ট গন্তব্য, পরিকল্পনা ও যেকোনো অবস্থা সঠিকভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা থাকতে হবে। তাঁকে হতে হবে সৎ ও উদার মনের। সফলতাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে কিন্তু ব্যর্থতাকে নিজের করে নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ় হতে হবে। 
সমস্যাকে কখনো এড়িয়ে যেতে চাইবে না। বরং সমস্যা এলে তার মুখোমুখি দঁাড়াবে। মনে রাখবে, সমস্যাবিহীন সাফল্যে কোনো আনন্দ নেই। সব সমস্যার সমাধান আছেই। জ্ঞান আহরণ থেকে কখনো বিরত থেকো না। কারণ এই জ্ঞানই তোমাকে মহানুভব করে তুলবে। অন্য গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করবে। নিজেকে অনন্য সাধারণ করে তোলার চেষ্টা করো। মনে রাখবে, তোমার চারপাশের পৃথিবী সর্বদা তোমাকে সাধারণের কাতারে নিয়ে আসার চেষ্টায় লিপ্ত। হতাশ না হয়ে নিজেকে স্বপ্নপূরণের কতটা কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারছ সেদিকে নজর রাখবে। কখনোই সাহস হারাবে না। নিজের একটি দিনও যাতে বৃথা মনে না হয় সে চেষ্টা করো। 
তোমরা সবাই ভালো থাকবে। সবাই কোনো না কোনো দিন উড়বে। তোমাদের সবার জন্য শুভকামনা। 
মূল বক্তৃতার নির্বাচিত অংশ অবলম্বনে 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

গ্যারেজ থেকে শুরু!




স্টিভ জবস (১৯৫৫–২০১১) অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতাঅ্যাপল কম্পিউটার
১৯৭৬ সালে শুরু হয় অ্যাপলের গল্প। ২১ বছরের তরুণ স্টিভ জবস আর ২৬ বছরের স্টিভ ওজনিয়াক। দুই স্টিভ মিলে অ্যাপল ওয়ান নামের কম্পিউটার বিক্রি শুরু করেন। প্রতিটি কম্পিউটারের দাম পড়ত ৬৬৬.৬৬ মার্কিন ডলার, যা কিনা বর্তমানে দুই হাজার ৭৬৩ ডলারের সমমূল্য। ক্যালিফোর্নিয়ার কাপারটিনোর এক গ্যারেজেই তৈরি হতো কম্পিউটারগুলো। সেই গ্যারেজের কোম্পানিটিই বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি প্রযুক্তি কোম্পানি। বর্তমানে অ্যাপলের বার্ষিক আয় ১৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
গ্যারেজের ঠিকানা: ২০৬৬ ক্রিস্ট ডিআর, লস আলটোস, ক্যালিফোর্নিয়া।
সূত্র: রিটায়ার অ্যাট২১ ডট কম।

জেফ বেজোস (১৯৬৪–) প্রতিষ্ঠাতা, আমাজন ডট কমআমাজান ডট কমপ্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ করে মার্কিন শেয়ারবাজারে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ শুরু করেন জেফ বেজোস। হঠাৎই একদিন ইন্টারনেট নিয়ে সামনে পড়ে একটা ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন। ১৯৯০ দশকের সেই প্রতিবেদনে লেখা ছিল, ভবিষ্যতে ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার জগৎ ২৩০০ শতাংশ বিস্তৃতি লাভ করবে। এক প্রতিবেদন পড়েই মাথা ঘুরে যায় জেফের। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অনলাইন বুকস্টোর আমাজন ডট কম। ওয়াশিংটনের বেলেভিউর গ্যারেজেই ছিল প্রথম অফিস তাঁর। গ্যারেজ থেকেই যাত্রা শুরু হয় আমাজনের। যদিও প্রথম বই বিক্রি হয় এক বছর পরে ১৯৯৫ সালে। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মধ্যে ১৯৯৭ সালে আমাজনের আইপিও শেয়ার বাজারে আসে। বর্তমানে আমাজন ডট কমের কর্মী সংখ্যা এক লাখ ৩২ হাজার এবং বার্ষিক আয় প্রায় ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গ্যারেজের ঠিকানা: ১০৭০৪ এনই, ২৮ বেলেভিউ, ওয়াশিংটন।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS