Md. Afrooz Zaman Khan

Afrooz
Md. Afrooz Zaman Khan. Powered by Blogger.
RSS

সেরেব্রাল পলসি





রাস্তার একপাশ দিয়ে অবনতমস্তক এক তরুণ অদ্ভুত এক আড়ষ্ট ভঙ্গিতে হেঁটে যাচ্ছে একটা হাত ভাঁজ করে বুকের কাছে রাখা, একই দিকের পাও সে টেনে টেনে চলছে হাঁটু কোমর একটু বাঁকা করে মুখ থেকে লালা গড়িয়ে পড়ছেএমন দৃশ্য মাঝেমধ্যে আপনার নজরে পড়তেই পারে এমনটি যদি হয়, তবে সম্ভবত ওই তরুণটি সেরেব্রাল পলসি রোগে ভুগছে

কোন শিশুদের হতে পারে
নির্দিষ্ট সময়ের আগেই যাদের জন্ম l
জন্মের সময় যাদের ওজন খুব কম থাকে l
জন্মের পরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া শিশু l
সমস্যাযুক্ত প্রসব বা প্রসবে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া l

রোগের কারণ
 গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগ, নেশাসক্তি বা কিডনিজনিত রোগl
 জন্মের সময় কোনো কারণে যদি শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেন ঘাটতি হয়l
 জন্মের পর মেনিনজাইটিস, খিঁচুনি, দুর্ঘটনা ইত্যাদিl

কেমন করে বোঝা যাবে
সাধারণত জন্মের পর পর তেমন কিছু বোঝা যায় না তবে শিশু যখন সঠিক সময়ে বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না এবং শিশুর জন্মকালীন ইতিহাস যদি ওপরের বর্ণনামতো হয়, তবে ধারণা করা যেতে পারে যে শিশুটির সেরেব্রাল পলসি থাকতে পারে
চিকিৎসা
সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর অবস্থা উন্নত করা গেলে, রোগী নিজের জীবন-জীবিকার জন্য পরনির্ভরশীল না থেকে স্বাবলম্বী হতে পারে এবং পরিবার, সমাজ সর্বোপরি দেশ একজন অক্ষম মানুষের বোঝামুক্ত হয়ে সক্ষম এক মানুষের সাহায্য লাভ করতে পারে সেরেব্রাল পলসির চিকিৎসা একটা সমন্বিত ব্যাপার এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ, ফিজিওথেরাপিস্ট, সমাজকর্মীসবাই মিলেই সমন্বিতভাবে এই চিকিৎসা করতে হয়
চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্যই থাকে রোগীর যা অবস্থা আছে তা থেকে কিছুটা ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া অর্থাৎ যে হুইল চেয়ারেই বসতে অক্ষম, তাকে হুইল চেয়ারে বসতে সমর্থ করা, যে হাঁটতে অক্ষম তাকে হাঁটতে সক্ষম করা ইত্যাদি চিকিৎসা শুরু হতে হয় যখন রোগটা নিরূপণ করা হয় তখন থেকেই এবং ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা বিশেষ ধরনের জুতা অর্থোটিক্স এবং অর্থোপেডিক সার্জারি ধরনের এক বা একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োজন পড়ে সেরেব্রাল পলসির চিকিৎসায় অর্থোপেডিক সার্জারির মাধ্যমে আজকাল রোগীর চলাফেরা জীবন ধারণ অনেকখানিই সহজ করা যায় বিশেষ করে যাদের দুই পা আক্রান্ত (Diplegia) অথবা এক দিকের হাত পা আক্রান্ত আছে, তাদের ক্ষেত্রে সার্জারির ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক সবাই মিলে হাত বাড়িয়ে দিলেই এই প্রায় অক্ষম মানুষগুলো অনেকখানি কর্মক্ষম হয়ে দেশ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে পারে আমাদের স্বপ্নের সোনার দেশে এই ভাগ্যাহত মানুষগুলোকে যেন আমরা ভুলে না যাই


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment