Md. Afrooz Zaman Khan

Afrooz
Md. Afrooz Zaman Khan. Powered by Blogger.
RSS

মাদিবার কাছে করা প্রতিজ্ঞা আমি রেখেছি



বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী টিভি ব্যক্তিত্ব অপরাহ্ উইনফ্রে। টানা ২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ‘দ্য অপরাহ্ উইনফ্রে শো’ সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করেছেন তিনি। গত ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের জনসন সি. স্মিথ ইউনিভার্সিটির ১৪৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বক্তা ছিলেন এই উপস্থাপক।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসে মানুষ বলে, ‘আমি রোমাঞ্চিত। আনন্দিত।’ আজকে আমার অনুভূতিটা তার চেয়েও বেশি কিছু। কেন? বলছি।
২০০২ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার (মাদিবা) বাড়ির অতিথি হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। প্রায় ১০ দিন সেখানে ছিলাম। সে সময় একবার মাদিবার সঙ্গে আলাপ হচ্ছিল, কী করলে পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য দূর হতে পারে। বিশেষ করে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দারিদ্র্য মুছে ফেলতে হলে কী করণীয়, সেটাই তিনি জানতে চাইছিলেন। আমি বললাম, আমার মনে হয়, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একমাত্র শক্তি হতে পারে শিক্ষা। সঙ্গে এ-ও জানালাম, আমি দক্ষিণ আফ্রিকায় মেয়েদের জন্য একটা স্কুল করতে চাই।
তিনি আমাকে পথ বাতলে দিলেন। আমার স্কুল গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো। আমি মেয়েদের সেই স্বপ্ন, সেই আশাটা দিতে চেয়েছিলাম, যেটা একদিন আমি পেয়েছি। আমি মেয়েদের একটা সুযোগ দিতে চেয়েছি। কারণ তুমি কাউকে যত বড় সুযোগ দেবে, তার কাছে তোমার প্রত্যাশাটাও তত বড় হবে। টাকা দিয়ে তুমি কারও জীবন বদলাতে পারবে না। শিক্ষার মাধ্যমে বরং তুমি কাউকে সেই সুযোগটা করে দিতে পারো, যেন সে নিজেই নিজের জীবন বদলাতে পারে।
অতএব, কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমি খুঁজতে শুরু করলাম, দক্ষিণ আফ্রিকার কোন মেয়েদের মাঝে ‘একটা কিছু’ আছে। নয়টা প্রদেশ ঘুরে আমি নিজে প্রায় পাঁচ শর বেশি মেয়ের সাক্ষাৎকার নিলাম, সেই ‘একটা কিছু’র খোঁজে। কী সেটা? ব্যাপারটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এভাবে বলা যায়, ‘যা-ই হোক না কেন, আমি পারব’। এই আত্মবিশ্বাস আর জেদটাই আমরা মেয়েদের চোখে খুঁজছিলাম। এমন কাউকে খুঁজছিলাম, যে নিজের ভাগ্য বদলাবে, পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবে।
আজ দেখো। সেই স্কুলের (অপরাহ্ উইনফ্রে লিডারশিপ একাডেমি ফর গার্লস) তিনটি মেয়ে তোমাদের ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। তিনজনের মধ্যে দুজন, যাদের আমি আমার মেয়ে বলি, আজ তোমাদের সঙ্গে স্নাতকের টুপি মাথায় দিয়ে বসে আছে! তাই কোনো কিছুই আমাকে আজ এখানে আসা থেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আজ মনে হচ্ছে, মাদিবার কাছে যে প্রতিজ্ঞা আমি করেছিলাম, সেটা রাখতে পেরেছি। আমি ভীষণ খুশি।
আমার মা-বাবার বিয়ে হয়নি। এমনকি তাঁরা মাত্র একবার মিলিত হয়েছিলেন। সুতরাং আমার জন্ম হোক সেটা কেউ চায়নি। এমনকি আমার মা-ও তাঁর মাতৃত্বের লক্ষণ লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। লোকে আমাকে ‘পিতৃপরিচয়হীন’ বলত। বুঝতেই পারছ, ১৯৫৪ সালের মিসিসিপিতে এই শব্দটা কতখানি লজ্জা বহন করত। জন্মের পর অনেকটা সময় এই লজ্জা আমাকে ঘিরে রেখেছিল। যখন আমার বয়স চার কি পাঁচ, তখন প্রথম ভেতর থেকে একটা অন্য রকম ডাক শুনতে পেলাম। এমন এক মিসিসিপিতে আমি বড় হয়েছি, যেখানে বিদ্যুৎ, পানি, টেলিভিশন কিছুই ছিল না। একদিন আমার নানি রোদে কাপড় দিচ্ছিলেন। আমি বারান্দায় বসে খেলছিলাম আর নানির কাজ দেখছিলাম। নানি বললেন, ‘আমাকে দেখে শেখো। একদিন তোমাকেও করতে হবে।’ সেদিনই প্রথম আমার ভেতর কে যেন বলে উঠল, ‘উঁহু, আমি তো তোমার মতো হব না!’ আমি বলেছি, আমার বয়স মাত্র চার কি পাঁচ। সে বয়সেই কেন যেন মনে হচ্ছিল, জীবনে আরও বড় কিছু করার আছে। হওয়ার .আছে। আজ পর্যন্ত ভেতরের সেই কণ্ঠস্বরটাই আমাকে এত দূর এনেছে। আমি তোমাদেরও এই উপদেশই দেব, হৃদয়ের ডাকে সাড়া দাও। প্রত্যেক মানুষের ভেতরে এমন একটা কণ্ঠস্বর আছে, যেটা তাকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বলে। যদি আর সবাই ভুল কাজটাও করে, তুমি অন্যের কথা না শুনে নিজের ভেতরের সেই কণ্ঠস্বরটা শোনো।


ইংরেজি থেকে অনুবাদ .

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডে একসঙ্গে বেয়ার গ্রিলস-ওবামা




সম্প্রতি একটি টিভি শোতে দেখা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। 'ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড' খ্যাত জনপ্রিয় সার্ভাইভাল স্পেশালিষ্ট বেয়ার গ্রিলসের সঙ্গে 'রানিং ওয়াইল্ড উইথ বেয়ার গ্রিলস' নামক শোতে দেখা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।

ডিসেম্বরের ১৭ তারিখ ওবামার উপস্থিতিতে বিশেষ এই পর্বটি প্রচারিত হয় ডিসকভারি চ্যানেলে। তবে এটি ধারণ করা হয়েছিল সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে। Conference on Global Leadership in the Arctic এ অংশ নেয়ার জন্য ওবামা তখন আলাস্কাতেই ছিল। বেয়ার জানান, এ পর্বে মানুষ প্রেসিডেন্ট ওবামার এমন অনেক কিছুই জানতে পারবে যা তারা আগে জানতেন না।

এক সংবাদ সম্মেলনে বেয়ার বলেন, 'আসলে প্রেসিডেন্ট সবসময় এতোই নিরাপত্তার মধ্যে থাকেন যে অনেকের কাছেই মনে হয় তিনি বন্দী অবস্থায় আছেন'। স্বাধীনভাবে ঘোরা বা কিছু করাটা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। বন্য পরিবেশে এই অ্যাডভেঞ্চার তাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছে’।

তবে বিশ্বের সবচাইতে ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে এই পর্ব করতে গিয়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে এই টিভি শো নির্মাতাদেরকে। হেলিকপ্টার, স্নাইপার আর সিক্রেট সার্ভিসের কমপক্ষে ৫০ জন সবসময় সাথে ছিলেন।

এমনকি বন্য পরিবেশে ওবামা কি খাবেন আর পান করবেন তা নিয়েও ছিল কড়াকড়ি। কিন্তু তারপরও ওবামা এক ভালুকের আধখাওয়া স্যালমন মাছ খেয়েছেন, বেয়ারের বোতল থেকে পানিও পান করেছেন।

অনুষ্ঠানের মাঝখানে এই দুজন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেয়ারের কাছে ওবামার অন্যতম জিজ্ঞাসা ছিল নিজের মূত্র খেয়ে তার অনুভূতি কেমন হয় সে ব্যাপারে। বেয়ার মজা করে বললেন, 'প্রেসিডেন্ট সাহেব কিছুটা আতঙ্কে ছিলেন যে তাকেও এই কাজ করতে হয় কিনা'।

বিশ্বের মানুষের কাছে জনিপ্রয় এই দুই ব্যক্তিত্ব শুটিংয়ের নিজেদের পরিবার এবং সন্তান নিয়েও কথা বলেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল, তিনি নিজের চোখে আসলে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব দেখতে চেয়েছিলেন। ক্রমাগত পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার ফলে আলাস্কার বিভিন্ন অংশের বরফ গলে যাওয়ার চিত্র দেখতে পান তিনি।

একটি জায়গায় ওবামাকে নিয়ে বেয়ার দেখান যে কয়েক মাস আগেও যেখানে প্রচুর বরফ ছিল তার একটা বিশাল অংশ গলে গিয়েছে।

একজন বাবা হিসেবে এবং পৃথিবীর অন্যতম দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি হিসেবে ওবামা মনে করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হলেও আমাদের এই পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বারবার পড়ে গেলেও, বারবার উঠে দাঁড়াও




বেয়ার গ্রিলস দুঃসাহসী এক অভিযাত্রীর নাম। ডিসকভারি চ্যানেলের ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবেই তিনি বহুল পরিচিত। যুক্তরাজ্যে তিনি সবচেয়ে কম বয়সে প্রধান স্কাউট স্বীকৃতি পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জিকিউ সাময়িকীতে তিনি লিখেছেন, কীভাবে বাঁধা পেরোতে হয়
আমার মনে আছে, তখন আমি বেশ ছোট। প্রচণ্ড শীতের সকালে বাবা আমাকে সমুদ্রের পাড়ে ঘোড়ায় চড়াতে নিয়ে গেলেন। প্রথমে আমাদের ঘোড়া খানিকটা দুলকি চালে হাঁটল, এরপর একসময় দৌঁড়াতে শুরু করল। ঘোড়ার গতির কারণে আমি কিছুক্ষণ পরপর ঘোড়ায় বাঁধা বসার আসন থেকে শূন্যে উঠে যাচ্ছিলাম। বেশ লাগছিল। মনে হচ্ছিল আমি উড়ছি। কিন্তু হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি নিজেকে ঠাণ্ডা, নরম বালুর মধ্যে আবিষ্কার করলাম। বাবা মুখে বড় একটা হাসির রেখা টেনে হাততালি দিতে দিতে আমার কাছে এগিয়ে এলেন। বললেন, ‘তুমি কতটা ভালো অশ্বারোহী, সেটা মূল কথা নয়। বরং কতবার পড়ে গিয়ে তুমি কতবার আবার ঘোড়ার পিঠে উঠে বসেছ, সে সংখ্যাটাই বড়। অশ্বারোহন আর জীবন—দুটো ক্ষেত্রেই এটা তোমার কাজে আসবে।’
বাবা সেদিন আমাকে জীবনের মূল মন্ত্রটাই ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, যদি কেউ প্রথম একটা কিছু শুরু করে, তবে কাজের কোনো এক মোড়ে এসে সে ওই নরম বালুতে নিজেকে আবিষ্কার করবেই। এটাকে বরং সুলক্ষণ হিসেবেই ধরে নেওয়া উচিত। অর্থাৎ তুমি যা করছ, তা নিশ্চয়ই অনেক বড় কিছু। কেননা, একটা সহজ পথ তোমাকে কখনো বড় কিংবা চমকপ্রদ কিছুর কাছে নিয়ে যাবে না। বরং একটা ভয়ানক পথই অনেক অসাধারণ কিছু উপহার দিতে পারে। তাই আমাদের যোগ্যতা এটাই যে আমরা বারবার পড়ে গিয়েও আবার নতুন করে শুরু করলাম। যেমনটা ঘোড়ায় চড়তে গিয়ে আমরা করে থাকি। জীবনটাও অশ্বারোহনের মতোই।
আমি অনেকটা সময় যুক্তরাজ্যের স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখলাম কাজটা মোটেও সহজ নয়। বরং আমার দেখা সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল এটি। মাসের পর মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর যখন কেউ তোমাকে জানাবে, তুমি আসলে তাদের যোগ্য হয়ে উঠতে পারছ না, তখন এটা খুবই মর্মাহত করবে। তখন দুটো উপায় ছিল, প্রশিক্ষণটা ছেড়ে দেওয়া কিংবা সেই নরম বালু থেকে উঠে দাঁড়ানো।
মনে করতে পার যেটা হচ্ছে না সেটা ছেড়ে দেওয়া ভালো। বেশির ভাগ সচেতন মানুষ তাই-ই করবে। কিন্তু আমি আবার নরম বালুর ওপর ভর করে উঠে দাঁড়ালাম। আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম—আমি নিজেকে যোগ্য করে তুলব। যদিও অনেকটা সময় লেগেছিল আমার। কিন্তু আমি পেরেছিলাম। এবং সেদিন আমি আরেকটি বিষয় জানতে পেরেছিলাম, সব সময় শক্তি কিংবা তোমার সামর্থ্য কতটুকু, সেটাই যথেষ্ট নয়। বরং তোমার মনে কতটুকু বিশ্বাস আছে, তাও জরুরি। নিজেকে জিজ্ঞেস করো, বারবার পড়ে যাওয়ার পরও কি তুমি উঠে দাঁড়াবে? বারবার?
হাল ছেড়ো না। কেননা, একেকটি ব্যর্থতা নতুন সাফল্যের কাছে এগিয়ে যাওয়ার একেকটি ধাপ। কারণ, যখন তুমি হাল ছেড়ে দেবে, তখনই তোমার কাঙ্খিত জিনিসটি তুমি হারাবে। এবং ঠিক তখনই তুমি হেরে গেলে। তুমি যদি কিছু চালিয়ে যাও, সেটাতে আর যা-ই হোক, একটা ফল পাবেই।
উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, ‘সাফল্যের যোগ্যতা হচ্ছে একটি ব্যর্থতা থেকে আরেকটি ব্যর্থতার কাছে ধরা দেওয়া, কিন্তু একই রকম উদ্যম নিয়ে।’ আমি যখন ফিরে তাকাই, তখন আমি অসংখ্য ভুল দেখতে পাই। একই সঙ্গে অনেক অর্জনও চোখে পড়ে। পৃথিবীতে অনেকে আছে, যারা তোমার সমালোচনা করবে। নতুন ব্যবসা শুরু করা, ম্যারাথনে অংশ নেওয়া কিংবা পদোন্নতি—যা-ই হোক না কেন। তোমাকে অবশ্যই বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে। এবং সেখান থেকেই স্বপ্নটাকে ছিনিয়ে আনতে হবে।
তাই বলি, লেগে থাকো। মনে রেখ, কেউই বাঁধা ছাড়া কিছু করতে পারেনি। বড় কিছু করতে হলে অবশ্যই অনেক বাজে কিছুর মধ্য দিয়েই যেতে হবে। তবে যখন তুমি কিছু অর্জন করবে, তখন কেউ সেই বাঁধার কথা জানবে না। শুধু জানবে, তোমার কথা। তোমার অর্জনের কথা। তুমি পড়ে যাবে; আবার উঠে দাঁড়াবে। যেমনটি চার্চিল বলেছিলেন, ‘তুমি যখন সবচেয়ে বাজে মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছ, তখনও থেমো না। চলতে থাকো।’
সব শেষে বলতে চাই, তুমি অবশ্যই অনেক ভালো কিছু পাবে যদি তুমি চেষ্টা করো। পড়ে যাও, আবার উঠে দাঁড়াও এবং চলতে থাকো। কিছু না কিছু তোমার জন্য থাকবেই। অনেকে তোমার স্বপ্ন চুরি করতে চাইবে। বলবে তুমি নির্বোধ। অহেতুক ছুটছ। কিন্তু তুমি পার্থক্যটা টের পাবে, যখন তুমি তোমার স্বপ্নচূড়ায় উঠে দাঁড়াবে। বিশ্বাস করো, স্বপ্নের চূড়ায় উঠে দাঁড়ানোর অনুভূতিটা অসাধারণ!



ইংরেজি থেকে অনুবাদ:

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ধনী হওয়ার সাত সূত্র






বিশ্বের বড় বড় ধনকুবের কীভাবে ধনী হয়েছেন? কেউ ধনী বাবার সম্পদে, কেউবা দা মেরে। মেধা খাটিয়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধনী হওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। ধনী হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বেশ ফলদায়ক, তা এখানে তুলে ধরা হলো:

১. সঞ্চয়:  কম খেয়ে বেশি করে সঞ্চয় করতে হবে। থিয়েটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডালাস মারভিকের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মার্ক কিউবান, যাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার, তিনি মনে করেন, ধনী হওয়ার মূলমন্ত্র সঞ্চয়। একটি পয়সাও অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা যাবে না। কফির বদলে পানি খেতে হবে। দামি বার্গারের বদলে বাসায় রুটি খেয়ে অর্থ জমাতে হবে। ভুলে যেতে হবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে করতে হবে সঞ্চয়।

২. স্রোতের বিপরীতে যাওয়া:  বাফেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন বাফেট, বর্তমানে যাঁর সম্পদের মূল্য ৭৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তাঁর মতে, ধনী হতে হলে স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার সাহস থাকতে হবে। মূলত, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়টির কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, পুঁজিবাজারে যখন বুমিংথাকবে, তখন বিনিয়োগ করা যাবে না। যখন বাজার পড়তির দিকে থাকবে, তখন বিনিয়োগ করতে হবে। এই মন্ত্র ব্যবহার করলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ধনী হওয়া যাবে। অর্থাৎ, সবাই যখন লাভ করছে, তখন বিনিয়োগ করা যাবে না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যখন বাজারে শেয়ারের মূল্য কম থাকবে, তখন বৃহৎ আকারে বিনিয়োগ করতে হবে।

৩. ভয় পেলে চলবে না:  যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবাসন প্রতিষ্ঠান কে বি হোমসের প্রতিষ্ঠাতা এলি বোর্ডের মতে, ধনী হওয়ার মূলমন্ত্র ভড়কে না যাওয়া। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭০০ কোটি ডলারের বেশি। কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে খুব বেশি সতর্ক থাকলে এবং ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে পিছপা হলে সফল হওয়া যায় না। অনেক সময় অজানা কোনো কাজেও সাহস করে এগিয়ে গেলে সফল হওয়া সম্ভব।

৪. কাজের ধরন নিজেকে জানতে হবে:  কোনো কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেই কোম্পানির কাজের ধারা সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে হবে। নিজের কোম্পানিতে কীভাবে পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, এ ব্যাপারে ধারণা না থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। চকলেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মারস ইন করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ফরেস্ট মার্স, যাঁর বর্তমান সম্পদের মূল্য ৪০০ কোটি ডলার, তাঁর মতে, নিজের সাফল্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করলে ব্যর্থতা নিশ্চিত।

৫. সুযোগ বুঝতে হবে:  গুগলের সাবেক সিইও এবং বর্তমান আলফাবেটের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান এরিক শ্যুমিৎ মনে করেন, সুযোগ বুঝতে হবে। ধনী হওয়ার বিষয়টি অনেক সময় ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। তবে ভাগ্য যখন আসবে, তখন তা বুঝতে হবে।

৬. আত্মকেন্দ্রিকতা:  নিজেকে জানতে হবে। সব পরিস্থিতিতে নিজেকে মানাতে হবে। জ্বালানি খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টেলসার প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্কনিজে ধনী না হলেও সম্পদ গড়ার বিষয়ে পরিকল্পনা দেওয়ায় তাঁর খ্যাতি রয়েছে। জাস্টিন মনে করেন, যেমন অবস্থাই আসুক না কেন, নিজেকে মানাতে হবে। হয়তো আপনার সামনে সামান্য খাবার, তা-ই দিয়ে আপনাকে চলতে হবে। ঘুম হচ্ছে না, এরপরও নিজেকে সতেজ রাখতে হবে।

৭. মন কী চায়:  বিশ্বের প্রায় সব ধনীই এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন। মন কী চায়, সে কথা শুনতে হবে। যে কাজটি মন থেকে আসে, তা-ই নিষ্ঠার সঙ্গে করতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে।

 সূত্র: দ্য চিটশিট


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ভেতরের স্বপ্ন, শক্তি, আলো কখনো নেভে না








ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ। প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব ডিরেক্টরদের মধ্যে একমাত্র নারী সদস্যও তিনি। ২০১২ সালে টাইম সাময়িকীর করা বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী মানুষের তালিকায় ছিল তাঁর নাম। গত ১৪ মে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের সমাবর্তনে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সাধারণত তরুণ আর প্রবীণের একটা চমৎকার সমন্বয় থাকতে হয়। তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে তোমরা তো আছই। প্রবীণের ভূমিকাটা আমার পালন করার কথা। আমি তোমাদের বলব জীবন থেকে আমি কী শিখেছি, তোমরা বাতাসে সমাবর্তনের টুপি ওড়াবে, পরিবারের সঙ্গে হাজারো ছবি তুলবে, ছবিগুলো ইনস্টাগ্রামে আপলোড করবে, হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যাবেতাই তো?

আজকে না হয় একটু ব্যতিক্রম হোক। হ্যাঁ, টুপি ওড়ানো কিংবা ছবি তোলার ব্যাপারটা একই রকম থাকবে। কিন্তু জীবন থেকে আমি কী শিখেছি, সেটা আজ তোমাদের বলব না। বরং বলব, মৃত্যু আমাকে কী শিখিয়েছে।
কখনো জনসমক্ষে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলিনি। ব্যাপারটা কঠিন। বলার সময় আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব যেন বার্কলের এই সুন্দর সমাবর্তন গাউনে আমাকে চোখ মুছতে না হয়।
ঠিক ১ বছর ১৩ দিন আগে আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। ডেভ। ওর মৃত্যুটা ছিল আচমকা, অপ্রত্যাশিত। আমরা মেক্সিকোতে এক বন্ধুর ৫০তম জন্মদিন উদ্যাপন করতে গিয়েছিলাম। ডেভ যখন জিমে ব্যায়াম করতে গেল, আমি তখন একটু চোখ বুজে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর আমাকে ডেভের নিথর দেহটা জিমের মেঝেতে আবিষ্কার করতে হলো। বাড়ি ফিরে ছেলেমেয়েদের বলতে হলো, তোমাদের বাবা আর নেই।
এরপর কয়েক মাস আমি গভীর বিষাদে ডুবে ছিলাম। আরও স্পষ্ট করে বললে, একটা শূন্যতা আমাকে ঘিরে ধরেছিল। সে শূন্যতা এতই প্রকট যে আমার কোনো কিছু ভাবতে, এমনকি নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হতো। ডেভের মৃত্যু খুব স্পষ্টভাবেই আমাকে বদলে দিল। আমি দুঃখের গভীরতা আর হারানোর ব্যথা বুঝলাম। একই সঙ্গে আমি এ-ও বুঝলাম, জীবন যখন তোমাকে নিচের দিকে টানতে থাকে, সে অবস্থায়ও সব ভেঙেচুরে উঠে আসা যায়, বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়া যায়। আমি শিখলাম, শূন্যতাকেও আনন্দময় আর অর্থবহ করে তোলা যায়।
এই আশায় তোমাদের এসব কথা বলছি, যেন এই শিক্ষাটা তোমরা আজই পাও। যেটা আমি মৃত্যু থেকে পেয়েছিলাম। আমাদের ভেতর স্বপ্ন, শক্তি আর আলোনিবু নিবু করেও কখনো নিভে যায় না
ছোট ছোট না পাওয়া তোমাদের কাতর করে। তুমি হয়তো আশা করেছিলে, কিন্তু এ-পেয়েছ। তুমি ফেসবুকে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করেছ, কিন্তু পেয়েছ গুগলে। তুমি কারও প্রেমে পড়েছ, কিন্তু সে তোমাকে ছেড়ে গেছে।
নিশ্চিত থাকো, এর চেয়েও দুঃখের মুহূর্ত তোমার সামনে আসবে। পছন্দসই একটা চাকরি হয়তো তুমি পাবে না। একটা দুর্ঘটনা কিংবা অসুস্থতা হয়তো মুহূর্তে তোমার জীবন বদলে দেবে। একটা ভাঙা সম্পর্ক, হয়তো আর কখনো জোড়া লাগবে না।
সহজ দিনগুলো সহজেই পেরিয়ে যাবে। আমি বলছি কঠিন সময়গুলোর কথা। যে সময় তোমার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। কঠিন সময়ই নির্ধারণ করবে, তুমি কে? শুধু তোমার অর্জনই তোমার পরিচয় নয়। বরং তুমি কীভাবে টিকে আছ, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনোবিদ বন্ধু অ্যাডাম গ্র্যান্ট একবার বলছিল, এর চেয়েও খারাপ কী হতে পারত, সেটা ভেবে আমার সান্ত্বনা পাওয়া উচিত। আমি বলেছিলাম, ‘কী বলছ! আমার স্বামী হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে?’ সে বলল, ‘ধরো এমনও তো হতে পারত, তোমার স্বামীর যখন কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া হলো, তখন সে গাড়ি চালাচ্ছিল। আর পেছনের সিটে বসে ছিল তোমার ছেলেমেয়েরা!ওর কথা শোনামাত্র আমার ভেতরটা কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল। তাই তো, জীবন অন্তত আমার কাছ থেকে আমার ছেলেমেয়েদের কেড়ে নেয়নি!
 

কৃতজ্ঞতাবোধ হলো স্থিরতার চাবি। জীবনের আশীর্বাদগুলোর মূল্যায়ন করলেই এমন আশীর্বাদ তুমি আরও পাবে। এ বছরের শুরুতে আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দিনের সেরা তিনটা মুহূর্ত লিখে রাখব। এই ছোট্ট একটা অভ্যাস আমার জীবন বদলে দিয়েছে। কারণ প্রতিদিন যা-ই ঘটুক না কেন, আমি আনন্দময় কিছু ভাবতে ভাবতে ঘুমাতে যাই। অন্তত চেষ্টা করি। আজ থেকেই তুমিও শুরু করতে পারো 
 

সূত্র: নিউজ ডট বার্কলে ডট এডু





  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

To Check own/My Number on other operators.




Here is a list of Bangladesh Mobile Company : Teletalk, GrameenPhone, Robi, Citycell, Airtel.


Airtel Bangladesh (016) Dial *121*6*3#
Grameenphone (017) Dial *2#
BanglaLink (019) Dial *511#
Teletalk (015) Dial *551# 
CityCell (011) Type MDN & send it to 7678
Robi  (018) *140*2*4#     Or,    Dial 1200 and listen and then choose  option 4
*updated 18-June-2013

  • Airtel Number check: dial     *121*6*3# 
  • BanglaLink Number check: dial    *511#
  • GP Number check, dial *2#
  • Robi Number check: Dial       *140*2*4#
  • Teletalk Number check, Dial  *551#

বাংলা লিংকে নিজের নাম্বার জানতে ডায়েল করুনঃ    *৫১১#
এয়ারটেলে নিজের নাম্বার জানতে ডায়েল করুনঃ    *১২১*৬*৩#
 
 
 
 


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS